যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরান আত্মসমর্পণ করবে না: মাসুদ পেজেশকিয়ান

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:১২ পূর্বাহ্ন, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৩:১২ অপরাহ্ন, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইরানের সামরিক বাহিনীর পরিবর্তে বেসামরিক জনগণ ও অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে যোদ্ধা মনে করলে ইরানের বীর সেনাদের মোকাবিলা করুক। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের চাপ বা সামরিক পদক্ষেপের কাছে ইরান কখনো আত্মসমর্পণ করবে না বলেও দৃঢ় অবস্থান জানিয়েছেন তিনি।

ইরানের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি মোকাবিলায় নামতে যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তার অভিযোগ, মার্কিন বাহিনী ইরানের সেনাদের সঙ্গে লড়াই না করে বেসামরিক জনগণ, অবকাঠামো ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে লক্ষ্য করে যুদ্ধ পরিচালনা করছে।

আরও পড়ুন: উপকূলে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের আঘাত, ১ লাখ ৮০ হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে

রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) মাইক্রোব্লগিং প্ল্যাটফর্ম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই নিজেদের যোদ্ধা মনে করে, তাহলে ইরানের বীর সেনাদের মোকাবিলা করা উচিত। বেসামরিক অবকাঠামো, খাদ্য সরবরাহ ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর কেন হামলা চালানো হচ্ছে—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।

ইরানি প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও চাপের মাধ্যমে ইরানের জনগণকে নত করা সম্ভব হবে না। খাবার ও ওষুধ থেকে সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করার মতো পদক্ষেপকে অমানবিক বলেও সমালোচনা করেন তিনি। তার বার্তা, যত চাপই দেওয়া হোক, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আত্মসমর্পণ করবে না।

আরও পড়ুন: ইসরায়েলের নির্বাচনে ৫৫ আসনে এগিয়ে নেতানিয়াহু

পেজেশকিয়ানের সর্বশেষ বক্তব্যের বড় অংশজুড়ে ছিল ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নৌ-অবরোধের সমালোচনা। দীর্ঘ ৪০ দিনের সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হলেও মার্কিন বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ অব্যাহত রেখেছে বলে দাবি করেছে তেহরান।

ইরানের অভিযোগ, এই অবরোধের কারণে দেশটিতে খাদ্য, ওষুধসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ আরও বাড়ছে বলে মনে করছে ইরান সরকার।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কঠোরভাবে সীমিত করে রেখেছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত এই প্রণালি দিয়ে যুদ্ধের আগে যে পরিমাণ জাহাজ চলাচল করত, সংঘাতের পর তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

ফলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি দুই দেশের পাল্টাপাল্টি অবরোধ ও সামুদ্রিক বিধিনিষেধ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি সরবরাহের ওপরও নতুন করে চাপ তৈরি করছে।