ফ্যাশনের ই-সিগারেটে মৃত্যু ঝুঁকিতে যুব সমাজ
- ৫০টিরও বেশি দেশে ই-সিগারেট নিষিদ্ধ
- ই-সিগারেটে ৮০টি ক্ষতিকারক উপাদান রয়েছে
- দেশে ৩ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ তামাক ব্যবহার করে
- ই-সিগারেট ফুসফুসের সংক্রমণ ও অসুস্থতা বাড়ায়
দেশে বর্তমান প্রজন্মের তরুণদের মধ্যে আশঙ্কাজনকভাবে ই-সিগারেটের ব্যবহার বাড়ছে। তরুণ প্রজন্ম অনেকটা ফ্যাশন হিসেবেই বেছে নিচ্ছে ই-সিগারেটকে। এর স্টাইলিশ ব্যবহার সহজেই আকৃষ্ট করে তরুণদের। এক যুগ আগেও কেবল রাজধানীর কিছু অভিজাত এলাকায় ই-সিগারেটের দোকান থাকলেও এখন তা সারা দেশেই ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশে তরুণদের মধ্যে ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট (এইচটিপি) ও নিকোটিন পাউচের মতো নতুন ধরনের তামাক পণ্যের ব্যবহার বাড়ছে। বয়স যাচাইয়ের ঘাটতি এবং অনলাইনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অবাধ প্রচারণা তরুণদের এসব পণ্যের প্রতি আকৃষ্ট করছে বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের (এনএইচএফ) গবেষণায় অংশ নেওয়া ৫২৪ জন তরুণ-তরুণীর ২৮ দশমিক ১ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা অন্তত একবার কোনো না কোনো উদীয়মান তামাক পণ্য ব্যবহার করেছেন। বর্তমানে এসব পণ্য ব্যবহার করছেন ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। এর মধ্যে ই-সিগারেটের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। গত বৃহস্পতিবার ঢাকার সিরাজড্যাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গবেষণার ফল প্রকাশ করা হয়। তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের কারণে দেশে অসংক্রামক রোগ যেমন- হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, ক্যানসার ও শ্বাসতন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদি রোগ ইত্যাদি বাড়ছে। বর্তমানে দেশে মোট মৃত্যুর ৬৭ শতাংশই অসংক্রামক রোগের কারণে ঘটছে। আর এই অসংক্রামক রোগ সৃষ্টির কারণ মূলত ধূমপান ও তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার। দেশে ৩ কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করেন। কর্মক্ষেত্রসহ উন্মুক্ত স্থান ও গণপরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন ৩ কোটি ৮৪ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ। আর তামাকজনিত বিভিন্ন রোগে প্রতি বছর প্রায় ১ লাখ ৬১ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।
বিশেষজ্ঞদের মত হচ্ছে, ক্রোমিয়াম ও সিসার মতো ধাতুসহ কমপক্ষে ৮০টি ক্ষতিকারক রাসায়নিক উপাদান সংবলিত ই-সিগারেট প্রচলিত সিগারেটের চেয়েও বেশি ক্ষতিকর। এটি পানে রয়েছে ক্যানসারসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা। বিভিন্ন ফ্লেভার এবং আকর্ষণীয় ডিজাইনের কারণে অনেকে শখের বসে ই-সিগারেট ব্যবহার করছে। লিথিয়াম ব্যাটারির মাধ্যমে কার্টিজে থাকা নিকোটিন, স্বাদ ও গন্ধমিশ্রিত ই-লিকুইড ও প্রপিলিন গ্লাইকল নামক রাসায়নিক পুড়িয়ে মস্তিষ্কে ধূমপানের মতো অনুভূতির সৃষ্টি করে ই-সিগারেট। অনেকে সিগারেটের বিকল্প হিসেবে কিংবা সিগারেট ছাড়তে হাতে তুলে নিয়েছে এই ডিজিটাল ভ্যাপিং ব্যবস্থা। বলা হয়ে থাকে ধূমপানে আসক্তি কমাতে ও সিগারেটের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে তামাকবিহীন ই-সিগারেট তুলনামূলক ভালো সমাধান হতে পারে। কিন্তু গবেষণা বলছে ভিন্ন কথা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ই-সিগারেট ব্যবহারকারীরা সরাসরি নিকোটিনের সংস্পর্শে আসে। ফলে ফুসফুসের সংক্রমণ ও অসুস্থতা বাড়ায় এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দেয়। আর ই-সিগারেটের তরল মিশ্রণের (ই-লিকুইড) মধ্যে থাকে প্রপেলিন গ্লাইসল, গ্লিসারিন, পলিইথিলিন গ্লাইসল, নানাবিধ ফ্লেভার এবং নিকোটিন। গরম হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই রাসায়নিকগুলো থেকে সাধারণ সিগারেটের ধোঁয়ার সমপরিমাণ ফরমালডিহাইড উৎপন্ন হয়। ই-সিগারেটের ধোঁয়ায় থাকে অতিসূক্ষ্ম রাসায়নিক কণা, যা স্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকর। এর থেকে গলা-মুখ জ্বালা, বমিভাব এবং কাশি দেখা দিতে পারে। এমনকি ক্যানসারের আশঙ্কাও রয়েছে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, গত ৫ বছরে দেশে ই-সিগারেট বিক্রির দোকান ৭৮ শতাংশ বেড়েছে। তরুণ সমাজে ‘ফ্যাশন’ ও ‘কুল’ থাকার প্রতীক হিসেবে যেভাবে ই-সিগারেটের ব্যবহার বেড়ে চলেছে, তা এখন উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আধুনিক ধোঁয়ার ফাঁদে পা দিয়ে ধ্বংস হচ্ছে তরুণদের ফুসফুস, বিকল হচ্ছে শ্বাসতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম। ই-সিগারেট বা ভ্যাপার একটি ব্যাটারিচালিত যন্ত্র, যা তামাক পুড়িয়ে নয় বরং তরল নিকোটিন গরম করে বাষ্প উৎপন্ন করে। বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ ডা. আরিফ হোসেন বলেন, ‘ই-সিগারেটের বাষ্পে থাকা রাসায়নিক উপাদানগুলো ফুসফুসের কোষকে ধ্বংস করে দেয়। এতে দীর্ঘমেয়াদে শ্বাসকষ্ট, ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস এমনকি ক্যানসার পর্যন্ত হতে পারে।’
আরও পড়ুন: দুর্নীতির চূড়ায় কাজী ওয়াহিদুল এখনো রূপালী ব্যাংকের এমডি
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ই-সিগারেট ব্যবহারকারীদের হৃদরোগ ও ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা সাধারণ ধূমপায়ীদের চেয়েও বেশি। বর্তমানে বাহারি ডিজাইন, বিভিন্ন স্বাদের ই-সিগারেট ও আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিশেষ করে স্কুল-কলেজপড়ুয়া কিশোর-কিশোরীদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, এটি একটি কৌশলী ফাঁদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরমান জাহিদ বলেন, ‘আমার অনেক বন্ধু শুরুতে কৌতূহল থেকে ই-সিগারেট ব্যবহার শুরু করেছিল। এখন তাদের অনেকেই নিয়মিতভাবে ভ্যাপ করে। কেউ কেউ চেষ্টা করেও ছাড়তে পারছে না।
বাংলাদেশে ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বর্তমানে ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট (এইচটিপি) ও নিকোটিন পাউচের মতো নতুন ধরনের তামাকপণ্য ব্যবহার করছেন। আর ২৮ দশমিক ১ শতাংশ তরুণ জীবনে অন্তত একবার এসব পণ্য ব্যবহার করেছেন। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশি তরুণদের ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট ও নিকোটিন পাউচ ব্যবহার প্রবণতা’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সমন্বয়ক ডা. অরুনা সরকার। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের উদ্যোগে পরিচালিত গবেষণায় ২০২৫ সালের মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত অনলাইন জরিপের মাধ্যমে ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী ৫২৪ জন তরুণের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গবেষণায় অংশ নেওয়া উত্তরদাতাদের মধ্যে ৭৮ দশমিক ২ শতাংশ পুরুষ এবং ২১ দশমিক ৮ শতাংশ নারী ছিলেন। গবেষণায় দেখা যায়, নতুন ধরনের তামাকপণ্যের মধ্যে ই-সিগারেটের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। অংশগ্রহণকারীদের ৪ দশমিক ৬ শতাংশ ই-সিগারেট, ১ দশমিক ৩ শতাংশ নিকোটিন পাউচ এবং শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট (এইচটিপি) ব্যবহার করছেন।
আরও পড়ুন: গুরুতর সব অপরাধ বাড়াচ্ছে মাদক
পুরুষ তরুণদের মধ্যে এসব নতুন ধরনের তামাকপণ্যের ব্যবহার তুলনামূলকভাবে বেশি। পুরুষ অংশগ্রহণকারীদের ৩৪ দশমিক ৪ শতাংশ জীবনে অন্তত একবার এসব পণ্যের যেকোনো একটি ব্যবহার করেছেন। অন্যদিকে, নারী অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে এ হার ৫ দশমিক ৩ শতাংশ। প্রচলিত সিগারেট ব্যবহারের সঙ্গে নতুন ধরনের তামাকপণ্য ব্যবহারের সম্পর্কও গবেষণায় উঠে এসেছে। বর্তমানে প্রচলিত সিগারেট ব্যবহারকারী তরুণদের মধ্যে ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ নতুন ধরনের তামাকপণ্য ব্যবহার করছেন। অন্যদিকে, বর্তমানে প্রচলিত সিগারেট ব্যবহার করেন না এমন অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে এই হার ১ দশমিক ৬ শতাংশ। নতুন ধরনের তামাকপণ্য ব্যবহারের কারণ হিসেবে বর্তমান ব্যবহারকারীদের ৩৭ দশমিক ৯ শতাংশ সামাজিক ও বন্ধুদের চাপের কথা জানিয়েছেন। ৩৪ দশমিক ৫ শতাংশ প্রচলিত তামাকের ব্যবহার কমানো বা এর বিকল্প হিসেবে এসব পণ্য ব্যবহারের কথা বলেছেন। আর ৩১ শতাংশ নিকোটিনের মাত্রা পছন্দ করার কথা জানিয়েছেন। পণ্য পাওয়ার ক্ষেত্রেও খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র ও সামাজিক মাধ্যমের ভূমিকার বিষয়টিও গবেষণায় উঠে এসেছে। বর্তমান ব্যবহারকারীদের ৩৭ দশমিক ৯ শতাংশ ভেপ বা বিশেষায়িত তামাকপণ্যের দোকান থেকে এসব পণ্য সংগ্রহ করেছেন। ৩১ শতাংশ বন্ধু বা সহকর্মীর কাছ থেকে এবং ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ অনলাইন স্টোরের মাধ্যমে পণ্য সংগ্রহের কথা জানিয়েছেন। মাত্র ২৪ দশমিক ১ শতাংশ বর্তমান ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, পণ্য কেনার সময় তাদের বয়সের প্রমাণপত্র দেখাতে বলা হয়েছিল।
গবেষণায় অংশ নেওয়া তরুণদের মধ্যে ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট ও নিকোটিন পাউচের বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপন দেখার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের ২৬ শতাংশ দোকান বা বিক্রয়কেন্দ্রে, ২০ দশমিক ৮ শতাংশ সামাজিক মাধ্যমে এবং ১৩ দশমিক ২ শতাংশ অন্যান্য মাধ্যমে এসব পণ্যের বিজ্ঞাপন বা বিপণন দেখেছেন। সামাজিক মাধ্যমে এসব পণ্যের বিজ্ঞাপনের মধ্যে ফেসবুক ছিল সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত প্ল্যাটফর্ম ৮৯ শতাংশ। এরপর ইনস্টাগ্রামে ৩৪ দশমিক ৯ শতাংশ এবং ইউটিউবে ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ বিজ্ঞাপন দেখেছেন।
গত বৃহস্পতিবার ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. খন্দকার আব্দুল আউয়াল রিজভীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি জহির উদ্দিন স্বপন।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, ‘তামাকবিরোধী আন্দোলন চলছে, ধূমপান নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে, এটি ঠিক আছে। কিন্তু তামাক কোম্পানিগুলো যখন বিকল্প পণ্য বের করে ধূমপায়ীদের ডাইভার্ট করে তাদের বাণিজ্যের চক্র বহাল রাখার প্রক্রিয়া চালায়, সে ব্যাপারে আমাদের সজাগ থাকতে হবে। সাধারণত এগুলোকে খুব নির্দোষ মনে হয়, কারণ এতে দৃশ্যত সিগারেট বা বিড়ি থাকে না। কিন্তু অ্যাডিক্টিভ সাবস্টেন্স (আসক্তিকর উপাদান) ঠিকই থেকে যায়।’
তরুণ প্রজন্মের ওপর এর প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত হয়ে ই-সিগারেট তরুণ প্রজন্মকে সহজেই আকর্ষণ করছে। একদিকে এটি একটি বড় ব্যবসা, অন্যদিকে তরুণদের ফ্যাশন চেতনা ও সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত সংযোগ তৈরির সুযোগ-সব মিলিয়ে এর ভয়াবহতা ভবিষ্যতে আরও বেড়ে যেতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
অতীতের উদাহরণ টেনে জহির উদ্দীন স্বপন বলেন, একসময় চলচ্চিত্রে সাহসী পুরুষ বা নায়ককে বোঝাতে ধূমপানের দৃশ্যকে গ্লোরিফাই (মহিমান্বিত) করা হতো, যার নেতিবাচক প্রভাব তরুণদের ওপর পড়েছিল। বর্তমানে ই-সিগারেটের ব্যবহারও ঠিক একইভাবে তরুণদের মনোজগতে নতুন করে নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
তামাকবিরোধী এই আন্দোলনকে আরও কার্যকর করতে তিনি বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘তরুণ ও কমবয়সী নাগরিকদের মনোজগতের একটি বিষয় এখানে জড়িত। তাই এই আন্দোলনের সঙ্গে এমন বিশেষজ্ঞদের ইনকর্পোরেট (যুক্ত) করা ভালো, যারা তরুণদের মনোজগৎ বুঝতে পারেন। তারা বুঝতে পারবেন এই কার্যক্রমে আর কী কী নতুন কম্পোনেন্ট যুক্ত করা প্রয়োজন।’
এটি ধূমপানের অভ্যাসকে বাড়িয়ে তোলে। তরুণদের জন্য এটি একটি নেশারি ‘গেটওয়ে’ হিসেবে কাজ করে, যা ভবিষ্যতে ধূমপানের আসক্তি বাড়াতে পারে। এমনকি ই-সিগারেটে আসক্ত ব্যক্তি ভবিষ্যতে আরো মারাত্মক সব নেশায় আসক্ত হয়ে পড়তে পারেন।
বাংলাদেশে ২০২৩ সালের একটি প্রস্তাবিত আইনে ই-সিগারেট নিষিদ্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সেটি কার্যকর হয়নি। ফলে বাজারে এখনও অবাধে বিক্রি হচ্ছে নানা ব্র্যান্ডের ই-সিগারেট। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ বিষয়ে তরুণদের মাঝে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সচেতনতামূলক সেমিনার, সামাজিক মাধ্যমে প্রচার ও সরকারি হস্তক্ষেপ জরুরি। ফ্যাশনের নামে ছদ্মবেশী এই ধ্বংসাত্মক আসক্তি থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে এখনই প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ। না হলে ফুসফুস নয়, ধ্বংস হবে একটি সম্ভাবনাময় প্রজন্ম। প্রসঙ্গত ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুরসহ ৫০টিরও বেশি দেশে ই-সিগারেট নিষিদ্ধ করা হয়েছে।





