প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক, আপত্তিকর অবস্থায় ইমাম আটক
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে পরকীয়া সম্পর্কের জেরে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় জাহিদুল ইসলাম (২৬) নামে এক মসজিদের ইমামকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় জনতা। সম্পর্কের বিষয়টি গোপন রাখতে তিনি এতদিন প্রবাসী ওই নারীকে নিজের ‘ধর্মবোন’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ৩টার দিকে রায়পুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মীরগঞ্জ সড়ক সংলগ্ন ‘মাসুদ ভিলা’ থেকে তাঁদের আটক করা হয়।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনে দুর্ঘটনায় ২ সেনা নিহত, আহত ১
আটক জাহিদুল ইসলাম উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের খাসেরহাট বাজার এলাকার রাড়ী বাড়ির নুরউদ্দিন ও খাদিজা বেগমের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষা দিতেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত নারী দুই সন্তানের জননী এবং তাঁর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে কর্মরত রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসীর অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে জাহিদুল ইসলাম গত প্রায় ৮ মাস ধরে ওই নারীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। অনায়াসে যাতায়াত ও মানুষের সন্দেহ এড়াতে তিনি নিজেকে ওই নারীর ‘ধর্মবোন’ বানিয়ে পরিবারের সাথে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেন। পরবর্তীতে তাঁদের এই অস্বাভাবিক যাতায়াত ও চলাফেরা স্থানীয়দের নজরে এলে এলাকায় গুঞ্জন সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসী একাধিকবার জাহিদুলকে সতর্ক করলেও তিনি তা উপেক্ষা করে যাতায়াত অব্যাহত রাখেন।
আরও পড়ুন: পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে গফরগাঁও পৌরসভায় ৪৫ ডাস্টবিন স্থাপন
মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে জাহিদুল পুনরায় ওই নারীর বাসায় প্রবেশ করলে আগে থেকে ওতপেতে থাকা প্রতিবেশীরা ঘরটি বাহির থেকে অবরুদ্ধ করে ফেলেন। ভেতরে দুজনকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা তাঁদের আটক করে রাখে এবং তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ও স্থানীয় সাংবাদিকদের খবর দেয়।
খবর পেয়ে রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভুঁইয়ার নির্দেশে উপ-পরিদর্শক (এসআই) নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি প্রতিনিধি দল মঙ্গলবার দুপুর ২টায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে পুলিশ তাঁদের দুজনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভুঁইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আটককৃতদের বর্তমানে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। প্রবাসে থাকা স্বামীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ বা অভিভাবক পর্যায়ের মামলা প্রাপ্তি এবং প্রাথমিক তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনাটি রায়পুর পৌরসভা ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সচেতন মহল একজন ধর্মীয় শিক্ষকের এমন অবক্ষয় ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।





