হুথিদের বিরুদ্ধে হামলায় যোগ দিতে পারে ইসরায়েল

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:০৪ অপরাহ্ন, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২:০৪ অপরাহ্ন, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযানে ইসরায়েল যোগ দিতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। মার্কিন সূত্রের বরাত দিয়ে লেবাননের সংবাদমাধ্যম আল-আখবার এ দাবি করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের জন্য তৈরি হওয়া হুমকি মোকাবিলায় বৃহত্তর একটি আঞ্চলিক সামরিক উদ্যোগে ইসরায়েল অংশ নিতে পারে।

আরও পড়ুন: ইন্দোনেশিয়ায় ৬.৬ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প

আল-আখবারের প্রতিবেদনে মার্কিন কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, আরব উপদ্বীপের কয়েকটি দেশকে ইসরায়েল সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে। এর মাধ্যমে বৃহত্তর একটি যুদ্ধে ইসরায়েলের অংশ নেওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এমন সময়ে এই দাবি সামনে এলো, যখন পশ্চিম ইয়েমেনে হুথিদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। তারা লোহিত সাগরের প্রবেশমুখে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছে পেরিম দ্বীপে পৌঁছেছে। ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথের ওপর হুথিদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন: মিষ্টিতে পোকা দেখিয়ে আইফোন-নগদ দাবি, ভ্লগার দম্পতির বিরুদ্ধে দোকানির অভিযোগ

হুথিদের নিয়ন্ত্রণ হরমুজের চেয়েও বিপজ্জনক হতে পারে

বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হলে পরিস্থিতি হরমুজ প্রণালির চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা।

শুক্রবার ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম এন১২-কে দেওয়া বক্তব্যে ওই কর্মকর্তা বলেন, বাব আল-মান্দাব প্রণালির আকার তুলনামূলকভাবে ছোট হওয়ায় সেখানে অবস্থান নিয়ে হুথিরা জাহাজের ওপর হামলা চালাতে উন্নত রাডার ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করেও আক্রমণ করতে পারবে।

তিনি বলেন, “তারা অ্যান্টি-ট্যাংক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে নিজেদের ইচ্ছামতো লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে পারবে। এমনকি নিজেদের চোখেই জাহাজ দেখতে পারবে।”

তার মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি হুথিদের হাতে “বিপুল ক্ষমতা” তুলে দেবে।

মোখা দখলের পর হুথিদের গতিবিধিতে নজর ইসরায়েলের

কৌশলগত বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছে ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা হুথিরা দখলে নেওয়ার পর থেকে তাদের গতিবিধি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ইসরায়েল।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম মারিভ বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, হুথিরা মোখা বন্দরের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করতে পারলে ওই এলাকায় তেলবাহী ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর চাপ বাড়াতে পারে বলে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন।

এমন পরিস্থিতিতে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আঞ্চলিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোও হুমকির মুখে পড়তে পারে।

একজন সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইয়েমেনে চলমান লড়াই এবং উপকূলীয় এলাকায় সামরিক শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তনের বিষয়টি ইসরায়েল ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

হুথি ও ইরানকে সতর্ক করল ইসরায়েল

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল আইয়াল জামির এবং ইসরায়েলি নৌবাহিনীর কমান্ডার ভাইস অ্যাডমিরাল আইয়াল হারেল চলতি সপ্তাহে হুথি ও ইরানকে সরাসরি সতর্ক করেছেন।

আইয়াল জামির বলেন, “বছরের পর বছর আমাদের বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া অস্তিত্বের হুমকি আমরা সরিয়ে দিয়েছি এবং পেছনে ঠেলে দিয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা কোনো উগ্র শত্রুর কাছ থেকে নতুন করে অস্তিত্বের হুমকি তৈরি হতে দেব না। আমাদের সীমান্তের কাছে কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনকে ঘাঁটি গড়তেও দেওয়া হবে না।”

ইসরায়েলি নৌবাহিনীর অভিযান প্রসঙ্গে জামির বলেন, বাব আল-মান্দাব, বৈরুতের কেন্দ্রস্থল, লেবাননের বন্দর এবং গাজার উপকূলে ইসরায়েলি বাহিনী প্রমাণ করেছে যে তাদের সামরিক সক্ষমতা দূরবর্তী স্থানেও পৌঁছাতে পারে।

নৌবাহিনীর কমান্ডার আইয়াল হারেল বলেন, “নতুন এই সামুদ্রিক যুদ্ধক্ষেত্রে এখন আর দূরবর্তী কোনো ফ্রন্ট বলে কিছু নেই।”

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসরায়েলের ক্ষতি করতে চাওয়া কারও জন্য দূরত্ব আর নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেবে না।

ইলাতে বড় সামরিক মহড়া ইসরায়েলের

এদিকে বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী ইলাত ও আশপাশের এলাকায় বড় পরিসরের একটি সামরিক মহড়া শেষ করেছে। ৮০তম ডিভিশনের নেতৃত্বে পরিচালিত ওই মহড়ায় ইলাতের উপকূলীয় জলসীমাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

মহড়ায় সমুদ্র, আকাশ ও স্থলপথে হুথি যোদ্ধা এবং ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে ইলাতে বড় ধরনের অনুপ্রবেশের একটি কাল্পনিক পরিস্থিতি তৈরি করা হয়।

এ সময় হোটেল, স্কুল, শপিং সেন্টার ও পর্যটনকেন্দ্র দখল এবং ব্যাপক জিম্মি পরিস্থিতির মতো সম্ভাব্য হামলার পর ইসরায়েলি বাহিনী কত দ্রুত ও কার্যকরভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে, তা পরীক্ষা করা হয়।

ইয়েমেনে হুথিদের সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রা, মোখা ও বাব আল-মান্দাব এলাকায় তাদের অবস্থান শক্ত করা এবং লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের ওপর বাড়তে থাকা হুমকির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট