ইরান-যুক্তরাষ্ট্র অন্তর্বর্তী চুক্তি
বিশ্ববাজারে কমেছে অপরিশোধিত তেলের দাম
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমিত করা, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং ইরানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের লক্ষ্যে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি স্বাক্ষরের পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে পতন দেখা গেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৯ সেন্ট বা ১ দশমিক ১২ শতাংশ কমে ৭৮ দশমিক ৬৬ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৯৮ সেন্ট বা ১ দশমিক ২৮ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৭৫ দশমিক ৮১ ডলারে।
আরও পড়ুন: ইসলামাবাদ এমওইউ স্বাক্ষর করলেন ট্রাম্প-পেজেশকিয়ান
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তির ফলে ইরানের তেল দ্রুত আন্তর্জাতিক বাজারে ফিরে আসতে পারে—এমন প্রত্যাশা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিক্রির প্রবণতা বাড়িয়েছে। এর প্রভাবেই তেলের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
১৪ দফার সমঝোতার আওতায় আগামী ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত আলোচনার ভিত্তি তৈরি করা হবে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগও নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন: নেতানিয়াহু সবাইকে বোমা মেরে উড়িয়ে দিতে চান: ট্রাম্প
তবে চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল বিষয়গুলো আপাতত আলোচনার বাইরে রাখা হয়েছে। এছাড়া ইরানের পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন পরিকল্পনার বিষয়টিও চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এদিকে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) সতর্ক করে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে ২০২৭ সালের মধ্যে বিশ্ববাজারে অতিরিক্ত তেল সরবরাহের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে চলতি বছরে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং জ্বালানি তেলের চাহিদার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।





