হরমুজের পর লোহিত সাগরও বন্ধের শঙ্কা, হুথিদের প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়েছে ইরান

Sanchoy Biswas
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:১৯ অপরাহ্ন, ১৬ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১০:০২ অপরাহ্ন, ১৬ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামো বা জাতীয় গ্রিডে হামলা চালালে পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুটে বাধা সৃষ্টি করতে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে তেহরান। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উচ্চপর্যায়ের তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লোহিত সাগরের তেল পরিবহন রুটে অস্থিরতা সৃষ্টি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে নতুন সংকট দেখা দিতে পারে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইরানের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট একটি আঞ্চলিক সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তেহরানের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় বার্তা হুথিদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: মিয়ানমার উপকূলে দুই নৌকা ডুবি, ৫০০ জনের বেশি নিহতের আশঙ্কা

তবে নির্দেশটি কীভাবে পাঠানো হয়েছে কিংবা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির পরপরই এটি দেওয়া হয়েছে কি না—সে বিষয়ে সূত্রগুলো নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেয়নি।

রয়টার্স জানায়, এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং হুথি গোষ্ঠীর মুখপাত্রের তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: পুরো মধ্যপ্রাচ্য গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের

হুথিদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের হোদাইদাহ অঞ্চল থেকে এডেন উপসাগরের মধ্যবর্তী এলাকা এবং লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব আল-মান্দেব প্রণালীর আশপাশে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে হুথিরা। বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে বলে ওই সূত্র দাবি করেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এখন শুধু চূড়ান্ত নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে গোষ্ঠীটি।

বিশ্লেষকদের মতে, বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে যেকোনো ধরনের অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে চলমান সংকটের মধ্যে লোহিত সাগরের রুটেও বিঘ্ন ঘটলে মধ্যপ্রাচ্যের দুটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ একসঙ্গে ঝুঁকির মুখে পড়বে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, হুথিদের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি অনুযায়ী, ইয়েমেনে অবস্থানরত ইরানের ইসলামি রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর প্রতিনিধিরা বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই সোমবার নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি বিমানবন্দরে বোমাবর্ষণের জন্য সৌদি আরবকে দায়ী করে দেশটির দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে হুথিরা। এর ফলে কয়েক বছর ধরে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ঝুঁকি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ভেরিস্ক ম্যাপলক্রফট-এর মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক প্রধান বিশ্লেষক তরবজর্ন সলভড বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। তার মতে, সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়ে লোহিত সাগরের রপ্তানি অবকাঠামো ও জাহাজ চলাচলে প্রভাব ফেললে অঞ্চলটির বিকল্প তেল পরিবহন পথও অচল হয়ে যেতে পারে।

রিয়াদের ঘনিষ্ঠ দুটি আঞ্চলিক সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, ইরান ও হুথিদের পক্ষ থেকে আসা এই হুমকিকে সৌদি আরব অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের পর আঞ্চলিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়। পরবর্তী সময়ে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সৃষ্ট সংকট এবং তেহরান-ওয়াশিংটনের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

সূত্র: রয়টার্স