গর্ব করে বললেন নেতানিয়াহু

‘আমি কাতারে হামলা করেছি, সেখানে বোমা মেরেছি’

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:২৭ পূর্বাহ্ন, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৫:২৭ অপরাহ্ন, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কাতারে বোমা হামলার ঘটনা নিয়ে প্রকাশ্যে গর্ব করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে গাজায় কাতারের পাঠানো কোটি কোটি ডলার অর্থ সহায়তা ছাড়া অন্য কোনো কাজে ব্যবহৃত হয়েছে—ইসরায়েলের অভ্যন্তরে এমন অভিযোগও নাকচ করেছেন তিনি।

শনিবার ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম আই২৪নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। সেখানে কাতারকে ‘শত্রুভাবাপন্ন’ দেশ হিসেবে উল্লেখ করেন নেতানিয়াহু।

আরও পড়ুন: মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের

নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমি কাতারে হামলা করেছি, সেখানে বোমা মেরেছি এবং যুদ্ধের সময় তাদের ওপর আক্রমণ চালিয়েছি। তারাও আমাকে আক্রমণ করেছে।’

নেতানিয়াহুর এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন দোহায় ইসরায়েলের হামলার এক বছর পূর্তি ঘনিয়ে এসেছে। ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর কাতারের রাজধানী দোহায় হামাসের কয়েকজন সদস্যের বৈঠকস্থলে ইসরায়েলি হামলায় পাঁচ হামাস সদস্য ও কাতারের এক নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন। ওই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত গাজা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছিল।

আরও পড়ুন: সৌদি আরবের কিং ফাহদ বিমানবন্দরে হামলা

দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংকটে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে কাতার। ২০১২ সাল থেকে দেশটিতে হামাসের রাজনৈতিক কার্যালয়ও রয়েছে। কাতারের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতেই হামাসের রাজনৈতিক কার্যালয় দোহায় স্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

দোহায় ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে কাতার একে ‘আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছিল। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি হামলাটিকে ‘কাপুরুষোচিত’ আখ্যা দেন।

হামলার পর ইরান ও পাকিস্তানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশও ইসরায়েলের পদক্ষেপের নিন্দা জানায়। সংহতি প্রকাশ করতে পরবর্তী সময়ে জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের নেতারাও কাতার সফর করেন।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও দোহায় ইসরায়েলি হামলাকে কাতারের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে মন্তব্য করেন।

এর কয়েক সপ্তাহ পর হোয়াইট হাউসে এক বৈঠকের সময় নেতানিয়াহু ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান বিন জাসিম আল থানির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। ওই সময় দোহায় হামলার জন্য তারা ক্ষমা চান।

এদিকে সাক্ষাৎকারে গাজায় কাতারের পাঠানো বিপুল অর্থের বিষয়টিও তুলে ধরেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, ইসরায়েলের অনুমোদন ও সহযোগিতায় গাজায় পাঠানো কাতারি অর্থ মূলত মানবিক সহায়তার উদ্দেশ্যেই দেওয়া হয়েছিল। তার দাবি, ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ও শিন বেতের সুপারিশের ভিত্তিতেই এসব অর্থ স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

নেতানিয়াহু বলেন, গাজায় প্রবেশ করা মোট অর্থের মাত্র ২ শতাংশ ছিল এই কাতারি অর্থ।

তবে নেতানিয়াহুর বিরোধীরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, কাতারের পাঠানো অর্থ হামাসকে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার প্রস্তুতিতে সহায়তা করেছিল। ওই হামলার পরই গাজায় ইসরায়েলের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ শুরু হয়।

অবশ্য কাতার বরাবরই হামাসকে অর্থায়নের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গাজায় পাঠানো সহায়তা কঠোর নজরদারি ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিতরণ করা হয়েছে।

গত বছরের দোহা ফোরামে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বলেছিলেন, ইসরায়েল এখন কাতারের হামাসকে অর্থায়নের যে দাবি করছে, তার কোনো ভিত্তি নেই। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কাতারের সব ধরনের সহায়তা গাজায় গিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছেছে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল স্বচ্ছ; এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রও সম্পূর্ণ অবগত ছিল।

এদিকে ইসরায়েলে আগামী ২৭ অক্টোবর সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর এটিই দেশটির প্রথম সাধারণ নির্বাচন। ভোট যত ঘনিয়ে আসছে, ততই গাজা যুদ্ধ, অর্থনীতি এবং ইরানের সঙ্গে সংঘাত নিয়ে নেতানিয়াহু সরকারের ভূমিকা নিয়ে অভ্যন্তরীণ চাপ বাড়ছে। এসব ইস্যুই নির্বাচনী প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

বিশ্লেষক ও সমালোচকদের মতে, নির্বাচনের আগে জাতীয়তাবাদী সমর্থন জোরদার করতে নেতানিয়াহু অতীতেও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ানোর কৌশল নিয়েছেন। কাতারে হামলার ঘটনা নিয়েও তার সাম্প্রতিক বক্তব্যকে সেই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন তারা।

 সূত্র: আল-জাজিরা