খাবারের আগে না পরে, ফল খাওয়ার সেরা সময় কোনটি?
ফল স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এতে রয়েছে ফাইবার, ভিটামিন, খনিজসহ নানা পুষ্টি উপাদান। স্বাস্থ্য সচেতন অনেকেই প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় বিভিন্ন ধরনের ফল রাখেন। কেউ সকালের নাস্তায় ফল খান, আবার কেউ দুপুর বা রাতের খাবারের পর ফল খেতে পছন্দ করেন। তবে প্রশ্ন হলো—ফল খাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময় কোনটি? খাবারের আগে, নাকি পরে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ মানুষের জন্য দিনের নির্দিষ্ট কোনো একটি সময়কে ফল খাওয়ার ‘সেরা সময়’ হিসেবে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়নি। খাবারের আগে, খাবারের সঙ্গে বা খাবারের পরেও ফল খাওয়া যায়। দিনের বিভিন্ন সময়ে শরীর ফলের ভিটামিন, খনিজ, ফাইবার ও প্রাকৃতিক শর্করা হজম এবং শোষণ করতে পারে।
আরও পড়ুন: শরীরে এই ৭ পরিবর্তন দেখা দিলে অবহেলা নয়, চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
খাবারের আগে ফল খেলে কী হয়?
ফলে থাকা ফাইবার ও পানির পরিমাণ পেট ভরা অনুভূতি দিতে পারে। এ কারণে খাবারের আগে বা হালকা নাস্তা হিসেবে ফল খেলে কিছু মানুষের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। তবে ফল খালি পেটে খেতেই হবে—এমন কোনো কঠোর বৈজ্ঞানিক নিয়ম নেই। বরং যাদের ফল খেলে পেট ফাঁপা, অ্যাসিডিটি বা অস্বস্তি হয়, তারা দিনের অন্য সময়ে বা খাবার থেকে আলাদা করে ফল খেয়ে দেখতে পারেন। কোন সময় শরীরের জন্য বেশি আরামদায়ক, সেটিই বিবেচনা করা ভালো।
আরও পড়ুন: কম বয়সেই চুল পড়ছে? যে কারণগুলো দায়ী হতে পারে
খাবারের পর ফল খাওয়া কি ক্ষতিকর?
না। সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে খাবারের পর ফল খাওয়াকে ক্ষতিকর বলা যায় না। ফল খাওয়ার সময়ের চেয়ে নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণে ফল খাওয়া এবং খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে বিভিন্ন মৌসুমি ফল খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ফলের রসের পরিবর্তে আস্ত ফল বেছে নেওয়া ভালো। কারণ আস্ত ফলে ফাইবার বেশি থাকে এবং এটি তুলনামূলকভাবে বেশি সময় পেট ভরা রাখতে পারে।
রক্তে শর্করার ওপর ফল খাওয়ার সময়ের প্রভাব
‘নিউট্রিয়েন্টস’ জার্নালে প্রকাশিত ২০২৩ সালের একটি গবেষণায় ফল খাওয়ার সময় রক্তে শর্করার মাত্রা ও পেট ভরা থাকার অনুভূতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা পরীক্ষা করা হয়। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের সকালের নাস্তায় কিউই ফল দেওয়া হয়—নাস্তার ৯০ মিনিট আগে, ৩০ মিনিট আগে, নাস্তার সঙ্গে এবং নাস্তার ৩০ মিনিট পরে। গবেষকরা দেখতে পান, সিরিয়ালের কিছু অংশের পরিবর্তে ফল খেলে অংশগ্রহণকারীদের ক্ষুধা না বাড়িয়েই রক্তে শর্করার সামগ্রিক প্রতিক্রিয়া প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কম ছিল।
গবেষণায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ফল পাওয়া যায় যখন কিউই ফলটি প্রধান খাবারের প্রায় ৩০ মিনিট আগে খাওয়া হয়েছিল। শুধু সিরিয়াল খাওয়ার তুলনায় এভাবে ফল খেলে রক্তে শর্করার আকস্মিক বৃদ্ধি প্রায় ৫০ শতাংশ কম দেখা যায়। অন্যদিকে, সিরিয়ালের সঙ্গে একই সময়ে বা খাবারের ৩০ মিনিট পরে ফল খেলে রক্তে শর্করার বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম ছিল।
গবেষকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, খাবারের কিছুক্ষণ আগে ফল খেলে এর ফাইবার ও প্রাকৃতিক উপাদান পরবর্তী কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবারের হজম ও শোষণের গতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এটি একটি নির্দিষ্ট গবেষণার ফল; সবার ক্ষেত্রে একই প্রভাব হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
তাহলে ফল খাওয়ার সেরা সময় কখন?
সাধারণভাবে সুস্থ মানুষের জন্য ফল খাওয়ার নির্দিষ্ট কোনো ‘আদর্শ সময়’ নেই। আপনি যে সময়ে নিয়মিত ফল খেতে পারেন এবং শরীরে অস্বস্তি হয় না, সেই সময়ই আপনার জন্য উপযুক্ত হতে পারে। তবে রক্তে শর্করার প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি যদি বিবেচনায় থাকে, ২০২৩ সালের ওই গবেষণায় খাবারের প্রায় ৩০ মিনিট আগে ফল খাওয়ার তুলনামূলক সুবিধা দেখা গেছে।
ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে ফল পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং কোন ফল কতটা খাওয়া হচ্ছে এবং দিনের মোট কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ কত হচ্ছে, তা বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
সবশেষে, ফল খাওয়ার সময় নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তার চেয়ে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পরিমিত পরিমাণে বিভিন্ন ধরনের আস্ত ফল রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।





