‘ইরান শোচনীয়ভাবে হেরে যাচ্ছে, এখন চুক্তি করতে চায়’: ট্রাম্প

Sanchoy Biswas
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৪১ অপরাহ্ন, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে ইরানের দেওয়া সাত দিনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, ইরান যুদ্ধে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হচ্ছে এবং বিপদে পড়েই এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করতে চাইছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান খুব শোচনীয়ভাবে হেরে যাচ্ছে। তারা একটি চুক্তি করতে আগ্রহী এবং আমি মনে করি, সেটা ভালো কথা। আমিও চুক্তি করতে পছন্দ করি।’

আরও পড়ুন: পরমাণু কর্মসূচিতে কোনো ছাড় দেবে না ইরান

এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করলে মাত্র সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং স্বাভাবিক সামুদ্রিক চলাচল শুরু করা সম্ভব। 

তেহরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ওপর থেকে নৌ অবরোধ তুলে নিতে হবে, তেল বিক্রির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে এবং লেবাননসহ যুদ্ধবিরতি মেনে চলতে হবে। এসব শর্ত পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার পাশাপাশি পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করবে ইরান। 

আরও পড়ুন: চুক্তি করে সাতদিনের মধ্যে হরমুজ খুলে দেওয়ার প্রস্তাব ইরানের

তবে ট্রাম্পের অবস্থান ভিন্ন। তাঁর দাবি, ইরান সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপে পড়েই দ্রুত চুক্তিতে পৌঁছাতে চাইছে। এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর পরিকল্পনার কথাও ওই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে ওয়াশিংটন কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে তাড়াহুড়া করতে চায় না। 

ইরানের এই কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে দেশটির নেতৃত্বের মধ্যেও মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। কয়েকজন কট্টরপন্থী রাজনীতিবিদ সরকারের আলোচনার উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, পররাষ্ট্রনীতি-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত দেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়েই নেওয়া হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধ বন্ধ ও জ্বালানির দাম কমানোর সম্ভাবনা ট্রাম্পের জন্য চুক্তিটিকে আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে। তবে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।

সূত্র: ইউরোনিউজ, রয়টার্স।