মিটফোর্ড হাসপাতালে ৩ ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীকে রেডিওলজি বিভাগে ন্যস্তকরণ
প্রতিবাদের মুখে প্রত্যাহারের আশ্বাস, এক সপ্তাহেও কার্যকর হয়নি, ক্ষুব্ধ টেকনোলজিস্ট সংগঠনগুলো
স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে কর্মরত তিনজন ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারী তথা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ডেন্টাল)-কে রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগে ন্যস্ত করার অফিস আদেশ নিয়ে পেশাজীবী সংগঠনগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। প্রতিবাদের মুখে হাসপাতাল প্রশাসন আদেশটি প্রত্যাহারের মৌখিক আশ্বাস দিলেও এক সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতারা।সংশ্লিষ্টদের দাবি, একটি বিভাগের টেকনিক্যাল এক্সপার্টকে অন্য একটি সংবেদনশীল ও বিশেষায়িত বিভাগে ন্যস্ত করার ফলে পেশাগত দায়িত্ব ও কর্মপরিধি নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। এ কারণে তারা অবিলম্বে আদেশটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে তিনজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ডেন্টাল)-কে রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগে ন্যস্ত করার অফিস আদেশ জারির পর বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ শুরু হয়। বাংলাদেশ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিএমটিএ), মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এম-ট্যাব), মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ফোরাম (এমটিএফ), বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদ (বিডিপি), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং টেকনোলজিস্ট (বারিট), বাংলাদেশ সোসাইটি ফর মেডিকেল ল্যাবরেটরি টেকনোলজি এবং তরুণ মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের অধিকার আদায়ের মঞ্চ ‘রণভেরী’র পক্ষ থেকে এ আদেশের প্রতিবাদ জানানো হয়।এরই ধারাবাহিকতায় ১৯ সেপ্টেম্বর বারিটের কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে হাসপাতাল প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে অফিস আদেশটি প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।পরে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আদেশ প্রত্যাহারের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় বিএমটিএ সভাপতি খাজা মঈন উদ্দিন মঞ্জু, এম-ট্যাব সভাপতি এ কে এম মুসা লিটন, বিএমটিএ ও এম-ট্যাবের মহাসচিব মো. বিপ্লবুজ্জামান বিপ্লব, এম-ট্যাবের সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ হাসপাতালের পরিচালক, উপপরিচালক ও সহকারী পরিচালকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
আরও পড়ুন: নিকলীতে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার, ২১ দিনের কারাদণ্ড
এ সময় নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে ন্যস্তকরণের আদেশ বাতিলের দাবি জানান। পাশাপাশি রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের জনবল সংকট থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিওলজি) পদ সৃষ্টিরও দাবি জানান তারা।সাক্ষাৎকালে হাসপাতাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে অফিস আদেশটি প্রত্যাহারের মৌখিক আশ্বাস দেওয়া হয় বলে দাবি করেছেন সংগঠনগুলোর নেতারা। তবে আশ্বাসের পরও আদেশটি প্রত্যাহার না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।বিএমটিএ ও এম-ট্যাবের মহাসচিব মো. বিপ্লবুজ্জামান বিপ্লব বলেন, “জনস্বাস্থ্য ও পেশাগত শৃঙ্খলার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অফিস আদেশটি প্রত্যাহার করা প্রয়োজন। অন্যথায় সারাদেশের মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের সঙ্গে আলোচনা করে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।”বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদের মহাসচিব লায়ন মুহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, “রোগীর সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসাসেবার মান নিশ্চিত করতে প্রত্যেক টেকনিক্যাল এক্সপার্টকে তার নিজস্ব পেশাগত দক্ষতা ও বিভাগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দায়িত্বে রাখা প্রয়োজন। অবিলম্বে আদেশটি বাতিল করে পেশাগত শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সংশ্লিষ্টদের স্ব স্ব বিভাগে কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা উচিত।”
সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর নেতারা বলছেন, রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের জনবল প্রয়োজন থাকলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রশিক্ষিত ও যোগ্য মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগ বা পদায়নের মাধ্যমে সেই ঘাটতি পূরণ করা যেতে পারে। একই সঙ্গে তারা হাসপাতাল প্রশাসনের কাছে দ্রুত বিষয়টির সমাধান এবং প্রত্যাহারের আশ্বাস বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।





