মৌলভীবাজারে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হাম ও ডেঙ্গুর প্রকোপ

Sadek Ali
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১:০৬ অপরাহ্ন, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২:০১ অপরাহ্ন, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মৌলভীবাজারে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হাম ও ডেঙ্গুর সংক্রমণ। এসব রোগে আক্রান্ত হয়ে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর চাপ। সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে বর্তমানে প্রায় ৫০ জন হাম রোগী ভর্তি আছেন। এর মধ্যে ৩০ জন শিশু ও ২০ জন প্রাপ্তবয়স্ক। চিকিৎসাধীন অবস্থায় হামে অন্তত ১৫ শিশুর মৃত্যুও হয়েছে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার সরকারি হাসপাতালে প্রায় ৩৭ জনের দেহে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ৩২ জন, শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন, কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন এবং বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আরও ১ জনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ২ জন ভর্তি রয়েছেন। এছাড়া জেলার প্রাইভেট হাসপাতালে প্রায় শতাধিক হাম ও ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।

আরও পড়ুন: সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ৮ মৃত্যু: দায়ীদের বিচার ও ক্ষতিপূরণ চেয়ে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, পুরো জেলায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৮৮৪ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়াও ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়েছে ৭৭৬ জনের।

মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন সূত্রে জানা গেছে, জেলায় চলতি বছরে এখন পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় হামে প্রাণ গেছে অন্তত ১৫ শিশুর।

আরও পড়ুন: রায়পুরে দুই শিক্ষার্থী নিখোঁজ, তিন দিনেও মেলেনি সন্ধান

মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. প্রনয় কান্তি দাশ বলেন, সদর হাসপাতালে ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি রোগী সামলাতে হচ্ছে। হাম ও ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ে অনেক রোগী ভর্তি হচ্ছেন। সীমিত জনবল ও সাধ্য নিয়ে বিশাল সংখ্যক রোগীকে একসঙ্গে চিকিৎসাসেবা দিতে মারাত্মক হিমশিম খেতে হচ্ছে।

মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রহমান বলেন, জেলায় এখন পর্যন্ত ৩৭ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে প্রাণঘাতী হামও। তবে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আনতে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হচ্ছে। এই কর্মসূচির আওতায় ২১ হাজার ৩৪৪ জন শিশুকে হামের প্রতিষেধক টিকা দেওয়া হবে। সংক্রমণ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত এই টিকাদান কার্যক্রম ও প্রতিরোধমূলক লড়াই অব্যাহত থাকবে।