যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের কাছে সাত শর্ত ইরানের
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য সাতটি শর্ত দিয়েছে ইরান। দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (SNSC) সচিব মোহসেন রেজায়ি জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারী কাতারের মাধ্যমে এসব শর্ত ওয়াশিংটনের কাছে পাঠানো হয়েছে। এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান।
রেজায়ি আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যুদ্ধের অবসান ও পুনরায় আলোচনার লক্ষ্যে ইরানের শর্তগুলো কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, তেহরান কাতারের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে এবং ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষা করছে।
আরও পড়ুন: সৌদিকে সামরিক সহায়তার প্রস্তাব তুরস্কের
প্রকাশ্যে এসেছে যে শর্তগুলো
ইরানের পক্ষ থেকে সাতটি শর্তের কথা বলা হলেও সবগুলো শর্ত প্রকাশ্যে জানানো হয়নি। এখন পর্যন্ত রেজায়ি যে শর্তগুলো উল্লেখ করেছেন, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—
আরও পড়ুন: সেতু থেকে বিএমডব্লিউ পড়ে নিহত ৩, আহত ১
- সব যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিক অভিযান বন্ধ করা;
- বিদেশে জব্দ বা আটকে থাকা ইরানের অর্থ ও সম্পদ ছাড় করা;
- ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা।
এর আগে ইরান আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি, গাজা ও লেবাননসহ বিভিন্ন এলাকায় সংঘাত বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়েও শর্তের কথা জানিয়েছিল। তবে ২০ সেপ্টেম্বরের আলোচনায় রেজায়ি সাতটি শর্তের পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করেননি।
রেজায়ি বলেন, ইরানের শর্তগুলো মেনে নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। একই সঙ্গে ট্রাম্পের হুমকিতে তেহরানের অবস্থান পরিবর্তন হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নতুন হামলার আশঙ্কা
এদিকে ইরানের সামরিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে হামলার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন রেজায়ি। তিনি বলেন, তেহরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার লক্ষ্যে নতুন কৌশলের অধীনে কাজ করছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন সংঘাতের জন্য ইরান প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতার ও পাকিস্তান দুই দেশের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরুর জন্য মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে ইরানের সাম্প্রতিক বার্তায় একদিকে কূটনৈতিক আলোচনার আগ্রহ এবং অন্যদিকে সামরিক প্রস্তুতি—দুই অবস্থানই প্রকাশ পেয়েছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার উদ্যোগের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নৌ চলাচলও আঞ্চলিক কূটনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।





