২ কোটি বাজেটের সিনেমার ২৮০ কোটির ঝড়, পেছনে যে গল্প

Any Akter
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:১৯ অপরাহ্ন, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৩:৩৫ অপরাহ্ন, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বলিউডের বড় তারকা নেই, নেই চোখধাঁধানো প্রচারণা কিংবা বিশাল বাজেট। মুক্তির পর প্রথম দুই সপ্তাহেও বক্স অফিসে তেমন সাড়া পায়নি সিনেমাটি। অথচ এরপরই বদলে যায় দৃশ্যপট। দর্শকের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে বিশাল চতুর্বেদি পরিচালিত আধ্যাত্মিক ড্রামা ‘হনুমান অংশ’। ধীরে ধীরে এটি পরিণত হয়েছে আলোচিত ‘স্লিপার হিট’-এ। সিনেমাটির অপ্রত্যাশিত সাফল্য শুধু ট্রেড বিশ্লেষকদেরই চমকে দেয়নি, প্রভাব ফেলেছে একই সময়ে মুক্তি পাওয়া বড় তারকাদের সিনেমার ব্যবসাতেও। এমনকি অক্ষয় কুমার ও সাইফ আলী খান অভিনীত সদ্য মুক্তি পাওয়া ‘হাইওয়ান’-ও ‘হনুমান অংশ’-এর দাপটে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

স্যাকনিল্কের তথ্য অনুযায়ী, মুক্তির ৩৯তম দিনে ভারতে ‘হনুমান অংশ’-এর মোট আয় দাঁড়িয়েছে ২৬৩ কোটি ৩০ লাখ রুপি। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পাওয়া ১৬ কোটি ৫০ লাখ রুপি গ্রস আয় যোগ করলে বিশ্বব্যাপী সিনেমাটির মোট আয় দাঁড়ায় ২৭৯ কোটি ৮০ লাখ রুপি। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, মাত্র দুই কোটি রুপি বাজেটে নির্মিত সিনেমাটি এ পর্যায়ের ব্যবসা করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: মা হতে চলেছেন মৌসুমী হামিদ

ভক্তি, দর্শনের গল্পেই কি সাফল্য?

সিনেমাটির সাফল্যের পেছনে দর্শকদের মুখে মুখে প্রচার বা ‘মাউথ পাবলিসিটি’কে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন অনেকে। তবে বিভিন্ন রিভিউতে সিনেমার আধ্যাত্মিক ও দার্শনিক বিষয়বস্তুকেও দর্শক আকর্ষণের অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

আরও পড়ুন: সুপারহিরো হচ্ছেন আমির খান

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘সংবাদ প্রতিদিন’-এর একটি রিভিউ অনুযায়ী, ‘হনুমান অংশ’ শুধু ঈশ্বরভক্তির গল্প নয়; বরং অহং, কামনা ও প্রতিকূলতার ঊর্ধ্বে উঠে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক শান্তি খোঁজার গল্প। ছবিতে নীম করোলি বাবার জীবন ও দর্শনের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে, ভক্তি শুধু কোনো কিছু পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা নয়; বরং নিজের ‘আমি’কে বিসর্জন দিয়ে নিঃশর্ত সমর্পণের মধ্যেও তার অর্থ খুঁজে পাওয়া যায়।

সিনেমাটি দর্শককে নিজের বিশ্বাস, সংশয় ও প্রার্থনার উদ্দেশ্য নিয়েও ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে বলে রিভিউতে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে এটি শুধু নির্দিষ্ট ধর্মীয় দর্শকের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে মানবিকতা ও ভালোবাসায় বিশ্বাসী দর্শকদেরও আকৃষ্ট করেছে বলে সমালোচকদের অভিমত।

কম বাজেটে নজরকাড়া ভিজ্যুয়াল

সিনেমাটির আরেকটি আলোচিত দিক এর ভিজ্যুয়াল। মাত্র দুই কোটি রুপি বাজেট হলেও ভিজ্যুয়াল এফেক্টস দর্শকদের ভালো অভিজ্ঞতা দিয়েছে বলে সমালোচকদের একটি অংশ মনে করছেন। নীম করোলি মহারাজের চরিত্রে অভিনয় করেছেন শোভিনব সত্য। তার অভিনয়ও দর্শকদের প্রশংসা পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কে ছিলেন নীম করোলি বাবা?

‘হনুমান অংশ’ নির্মিত হয়েছে ভারতের আধ্যাত্মিক সাধক নীম করোলি বাবার জীবনকে কেন্দ্র করে। তার আসল নাম লক্ষ্মণ নারায়ণ শর্মা। তিনি হনুমান বা বজরংবলীর একনিষ্ঠ ভক্ত হিসেবে পরিচিত ছিলেন। প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী, ১৯০০ সালের দিকে উত্তর প্রদেশের আকবরপুরে একটি ধনী ব্রাহ্মণ পরিবারে তার জন্ম। অনুসারীদের কাছে তিনি ‘মহারাজ জি’ এবং উত্তর ভারতে ‘মিরাকল বাবা’ নামে পরিচিত ছিলেন।

তাকে ঘিরে ট্রেনের একটি অলৌকিক ঘটনার গল্পও প্রচলিত রয়েছে। বলা হয়, টিকিট না থাকায় তাকে ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়া হলে ট্রেন আর চলছিল না। পরে তাকে সম্মানের সঙ্গে ট্রেনে তুলে নেওয়ার পর সেটি আবার চলতে শুরু করে। ঘটনাটি নীম করোলি এলাকায় ঘটেছিল বলে পরবর্তীতে তিনি ‘নীম করোলি বাবা’ নামে পরিচিত হন—এমনটাই প্রচলিত কাহিনি।

স্টিভ জবস-জাকারবার্গের সঙ্গেও যোগ

ষাট ও সত্তরের দশকে বহু আমেরিকান ও পশ্চিমা নাগরিক নীম করোলি বাবার আধ্যাত্মিক অনুসারী হয়েছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এমনকি অ্যাপলের সহপ্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস এবং ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গও উত্তরাখণ্ডের কৈঞ্চী ধামের আশ্রম থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন বলে প্রচলিত রয়েছে। নীম করোলি বাবা ১৯৭৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মহাসমাধিতে দেহত্যাগ করেন বলে তার অনুসারীদের মধ্যে প্রচলিত। সূত্র: