দিল্লিতে রাহুল-প্রিয়াঙ্কাসহ বিরোধী নেতারা আটক

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:৪০ পূর্বাহ্ন, ০৭ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৯:৪০ পূর্বাহ্ন, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে প্রায় নয় ঘণ্টার বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচির পর কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, তার বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রসহ বিরোধী জোটের কয়েকজন নেতাকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাদের বিক্ষোভস্থল থেকে বাসে করে উত্তর দিল্লির কিংসওয়ে ক্যাম্প এলাকায় নেওয়া হয়।

ইন্ডিয়া জোটের এই কর্মসূচি শুরু হয়েছিল সংসদ ভবন এলাকা থেকে নির্বাচন কমিশনের দপ্তরের দিকে মিছিলের মাধ্যমে। পরে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের কাছাকাছি অবস্থান নেন বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী বা এসআইআর নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে এবং সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে তারা এই কর্মসূচি পালন করেন।

আরও পড়ুন: রসায়নে নোবেল পেলেন হেনরি কাগান ও কেনসো সোয়াই

এ সময় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের টানাপোড়েনের ঘটনাও ঘটে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে প্রকাশিত ভিডিওতে রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে পুলিশ সদস্যরা বিক্ষোভস্থল থেকে সরিয়ে বাসে তুলতে দেখা যায়। পরে তাদের আটক করা হয়।

এর আগে দিনের শুরুতেও রাহুল ও প্রিয়াঙ্কাকে কিছু সময়ের জন্য পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। পরে তারা আবার বিক্ষোভস্থলে ফিরে আসেন। রাহুল গান্ধী সেখানে সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন কমিশনের দপ্তর কাছেই থাকা সত্ত্বেও তাদের সেখানে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। তিনি কমিশনের সঙ্গে সংসদ সদস্যদের সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান।

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে আবরও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য তারা সময় চেয়ে চিঠি দিয়েছে। দলটির দাবি ছিল, বিপুলসংখ্যক সংসদ সদস্যকে নিয়ে কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করতে হবে।

নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য

রাত ৯টার দিকে ভারতের নির্বাচন কমিশন পৃথক বিবৃতি দিয়ে জানায়, মঙ্গলবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দল তাদের অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে কমিশনের কাছে বৈঠকের জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন করেনি। কমিশনের দাবি, পরে দিল্লি পুলিশের মাধ্যমে তারা জানতে পারে, রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে ২৪০ জন সংসদ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল কমিশনের সঙ্গে দেখা করতে চায়।

কমিশন বলেছে, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকের জন্য একটি নির্ধারিত প্রক্রিয়া রয়েছে। সে অনুযায়ী অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে সময় চাওয়া হয় এবং উভয় পক্ষের সম্মতিতে বৈঠকের সময় নির্ধারণ করা হয়।

নির্বাচন কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ২৪০ জন সংসদ সদস্যকে নিয়ে পার্লামেন্ট হাউস অ্যানেক্সে বৈঠকের যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, সেটিকে তারা প্রচলিত প্রোটোকলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে করেনি। কমিশন জানায়, তাদের দপ্তরেই এ ধরনের বৈঠক হওয়ার নিয়ম রয়েছে। এমনকি সংসদ ভবনের নির্ধারিত স্থানে স্মারকলিপি গ্রহণের জন্য একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে পাঠানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল, তবে সেটি গ্রহণ করা হয়নি।

এদিকে, বিক্ষোভ ও আটকের পর রাহুল গান্ধীসহ আটক বিরোধী নেতাদের পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে এনডিটিভি জানিয়েছে।