সুদানে ড্রোন হামলায় নিহত ২১, আহত অন্তত ৪০
সুদানের দারফুর অঞ্চলের নিয়ালা শহরে ড্রোন হামলায় অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৪০ জন। বার্তা সংস্থা এএফপি চিকিৎসাকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার রাত ৮টার দিকে (বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার রাত ১২টা) শহরটির উত্তরাঞ্চলের একটি বাজারে হামলাটি চালানো হয়। মঙ্গলবার নিয়ালা হাসপাতালের এক চিকিৎসাকর্মী জানান, আগের রাতের বোমা হামলায় ২১ জন নিহত হয়েছেন এবং ৪০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: উপকূলের দিকে আঘাত হানাতে পারে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’,গতি ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারের আশঙ্কা
নিয়ালার আরেক বাসিন্দা এএফপিকে জানান, ওই বাজারে সশস্ত্র ব্যক্তিদের যাতায়াত ছিল। তাঁদের মধ্যে আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) সদস্যরাও নিয়মিত আসতেন।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। সেনাবাহিনী নিয়মিত নিয়ালা শহরে হামলা চালায়। শহরটিতে আরএসএফ নিজেদের প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করেছে, যা খার্তুমভিত্তিক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে কাজ করছে।
আরও পড়ুন: ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ সাবেক মিস সুইজারল্যান্ডের
সংঘাতে বাড়ছে ড্রোন হামলা
সুদানে যুদ্ধরত দুই পক্ষই সাম্প্রতিক সময়ে ড্রোন ব্যবহার করে হামলা জোরদার করেছে। চলতি মাসের শুরুতে আরএসএফ খার্তুম বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন বাঁধ ও বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এসব স্থাপনার কয়েকটি সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত।
মঙ্গলবার আরএসএফের আরেকটি ড্রোন হামলায় আল-মারখিয়াত ট্রান্সফরমার স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানিয়েছে দেশটির জাতীয় বিদ্যুৎ কোম্পানি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিষ্ঠানটি এএফপিকে জানায়, হামলার কারণে খার্তুম ও গেজিরা রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকায় লাখো মানুষের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।
এর আগের দিন সোমবার আরএসএফের সমন্বিত ড্রোন হামলায় ছয়টি বিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে গেজিরা, হোয়াইট নাইল, সেনার ও গাদারিফ রাজ্যের লাখো মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন।
চলতি মাসের শুরুতে সুদান ও দক্ষিণ সুদানের মধ্যবর্তী বিরোধপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় সরকারি বাহিনীর ড্রোন হামলায় ১৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন।
দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ
২০২৩ সালে সুদানের রাজধানী খার্তুমে দুই বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে যুদ্ধের সূচনা হয়। দুই বাহিনীকে একীভূত করার প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধ থেকেই সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে।
দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত কয়েক দশ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সংঘাতের কারণে সুদানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্ষুধা ও বাস্তুচ্যুতির সংকট তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আরও ৩০টি দেশ সুদানে খাদ্যপ্রাপ্তির পরিস্থিতির ‘উদ্বেগজনক অবনতি’ নিয়ে সতর্ক করেছে। দুর্ভিক্ষ ঠেকাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছে তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো সুদানের গৃহযুদ্ধে জড়িত পক্ষগুলোর প্রতি মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর পথে সব ধরনের বাধা দূর করার আহ্বান জানিয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা





