মার্কিন নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তিন জনপ্রতিনিধির জয়

Sanchoy Biswas
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:২৭ অপরাহ্ন, ০৪ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৮:২৭ অপরাহ্ন, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তিন রাজনীতিক জয় পেয়েছেন। তারা হলেন জর্জিয়ার স্টেট সিনেটর শেখ রহমান, কানেকটিকাটের স্টেট সিনেটর এমডি মাসুদুর রহমান এবং নিউ হ্যাম্পশায়ারের আইনসভার সদস্য আবুল খান। তাদের মধ্যে শেখ রহমান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে এমডি মাসুদুর রহমান রিপাবলিকান প্রার্থীকে পরাজিত করে নিজের আসন ধরে রেখেছেন। প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, আবুল খানও নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন।

জর্জিয়ার স্টেট সিনেটের ৫ নম্বর আসনে শেখ রহমানের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় সাধারণ নির্বাচনে তাকে ভোটের লড়াইয়ে নামতে হয়নি। প্রাথমিক নির্বাচনি ফলাফলে তার পক্ষে ৩৫ হাজার ১০১ ভোট দেখানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেল ডেমোক্র্যাটরা, বড় ধাক্কা খেল রিপাবলিকানরা

এর আগে গত ১৯ মে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনে রবিন ম্যাককয়কে হারিয়ে দলের মনোনয়ন পান শেখ রহমান। ওই নির্বাচনে তিনি ৬ হাজার ১৮৮ ভোট পেয়েছিলেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যাককয় পেয়েছিলেন ৫ হাজার ১৬৬ ভোট।

বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জে জন্ম নেওয়া শেখ রহমান জর্জিয়ার প্রথম মুসলিম ও এশীয় বংশোদ্ভূত স্টেট সিনেটর। ২০১৮ সালে প্রথমবার নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তিনি অঙ্গরাজ্যটির ৫ নম্বর আসনের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এর আগে ২০২৪ সালের নির্বাচনেও রিপাবলিকান প্রার্থী লিসা ব্যাবেজকে প্রায় দ্বিগুণ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে চতুর্থবারের মতো সিনেটর নির্বাচিত হন তিনি।

আরও পড়ুন: মধ্যবর্তী নির্বাচনে ১৬ আসনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ, পিছিয়ে ট্রাম্প

এদিকে কানেকটিকাটের স্টেট সিনেটের ৪ নম্বর আসনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী এমডি মাসুদুর রহমান রিপাবলিকান প্রার্থী জেন জেনিংসকে হারিয়ে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সিটি ইনসাইডারের প্রকাশিত প্রাথমিক ফলাফলেও তার জয়ের তথ্য উঠে এসেছে। তবে নির্বাচনে তিনি মোট কত ভোট পেয়েছেন, তা এখনো জানা যায়নি।

মাসুদুর রহমানের পৈতৃক বাড়ি বাংলাদেশের চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জে। ২০২২ সালে প্রথমবারের মতো কানেকটিকাটের স্টেট সিনেটর নির্বাচিত হন তিনি। এরপর ২০২৪ সালের নির্বাচনে ৩৩ হাজার ৯৯ ভোট পেয়ে দ্বিতীয়বারের মতো জয়ী হন এই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাজনীতিক।

অন্যদিকে নিউ হ্যাম্পশায়ারের রকিংহাম-৩০ আসন থেকে জয় পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আবুল খান। এ আসনে দুজন প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রাথমিক ভোট গণনায় ১ হাজার ৮৭৩ ভোট পেয়ে এগিয়ে ছিলেন তিনি। পরবর্তী নির্বাচনি ফলাফলের তালিকাতেও তাকে বিজয়ী হিসেবে দেখানো হয়েছে। একই আসন থেকে রিপাবলিকান প্রার্থী জেসন জ্যানভ্রিনও নির্বাচিত হয়েছেন।

বাংলাদেশের পিরোজপুরে জন্ম নেওয়া আবুল খান রিপাবলিকান পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। নিউ হ্যাম্পশায়ারের আইনসভার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সাল থেকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন তিনি। এর আগে ছয় মেয়াদে অঙ্গরাজ্যটির আইনসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এবারের জয় তার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় নতুন অর্জন যোগ করেছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পাঁচজন জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তারা হলেন শেখ রহমান, নাবিলা ইসলাম পার্কস, নূরুন নবী, এমডি মাসুদুর রহমান ও আবুল খান। তবে ২০২৬ সালের নির্বাচনে নাবিলা ইসলাম পার্কস ও নূরুন নবীর প্রার্থিতার বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে এবারের নির্বাচনে তাদের ফলাফল এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।