পোল্যান্ডের ক্রাকোর প্রধান চত্বরে বন্দুক হামলা, নিহত ৬, আহত ১৫

Sadek Ali
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন, ০৮ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

পোল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ক্রাকোর প্রধান চত্বরে বন্দুকধারীর হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন। আহতদের মধ্যে পুলিশ কর্মকর্তা ও বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। শনিবার বিকেলে শহরের জনপ্রিয় পর্যটন এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, স্থানীয় সময় বিকেল ৩টার দিকে এক ব্যক্তি গাড়ি নিয়ে শহরের মেইন মার্কেট স্কয়ারে প্রবেশ করেন। এরপর গাড়ি থেকেই এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করেন তিনি। এতে চার নারী ও দুই পুরুষ নিহত হন।

আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর বিদায়, সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেন আইজেনকোট

পরে পুলিশ গুলি চালিয়ে ওই ব্যক্তিকে আটক করে। হামলাকারী একাই এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

পোল্যান্ডের পুলিশপ্রধান মারেক বোরন জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে একজন ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছেন। আহতদের মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পাঁচজন বিদেশি নাগরিক। নিহত দুজনের পরিচয় তখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে নিহত ও আহতদের সবার জাতীয়তা প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন: দুই হাজার কিলোমিটারের সীমা তুলে নিল ইরান, আরও দূরপাল্লার মিসাইল তৈরির পরিকল্পনা

দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মারচিন কিয়েরভিনস্কি জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন ব্যক্তি পোল্যান্ডের নাগরিক। তাঁর মধ্যে উগ্র ডানপন্থী মতাদর্শের প্রতি আকর্ষণ এবং চরম জাতীয়তাবাদী মনোভাব ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশের এক মুখপাত্র জানান, হামলাকারীকে আটকের সময় পুলিশ অস্ত্র ব্যবহার করে। এ সময় ওই ব্যক্তি পাল্টা গুলি চালান। এতে দুই পুলিশ কর্মকর্তা আহত হন। তাঁদের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, হামলাকারীর গাড়িতে একাধিক অস্ত্র পাওয়া গেছে। তাঁর পরনে ছিল সামরিক বাহিনীর পোশাকের মতো পোশাক এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এআর-১৫ রাইফেলের মতো একটি আধা-স্বয়ংক্রিয় রাইফেল ব্যবহার করেন।

ঘটনাকে সন্ত্রাসী হামলা বললেন প্রধানমন্ত্রী

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেন পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক। পরে ক্রাকোতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ ঘটনাকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে উল্লেখ করেন।

টাস্ক বলেন, পোল্যান্ডে আগে এ ধরনের ভয়াবহ সন্ত্রাসী ঘটনা দেখা যায়নি। মানুষের জীবনের ওপর এই নিষ্ঠুর হামলাকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।

তিনি দুই দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেন। পাশাপাশি সন্দেহভাজন ব্যক্তির বাড়ি থেকে তিনটি মরদেহ—দুই নারী ও একজন পুরুষের—উদ্ধারের কথা জানান। তাঁদের সঙ্গে হামলাকারীর ঘনিষ্ঠ পারিবারিক সম্পর্ক থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোকি নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং হামলার পেছনের কারণ উদ্‌ঘাটনের আহ্বান জানান।

বিশ্বনেতাদের শোক ও সংহতি

হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইউক্রেনসহ বিভিন্ন দেশের নেতারা শোক প্রকাশ করেছেন। পোল্যান্ডে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত টম রোজ ঘটনাটিকে ভয়াবহ বন্দুক হামলা ও নৃশংস আক্রমণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই কঠিন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র পোল্যান্ডের পাশে রয়েছে।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসও পোল্যান্ডের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস বলেন, পোল্যান্ড একা নয়। এ ঘটনায় প্রাণহানির শোক শুধু পোল্যান্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইউক্রেন পোল্যান্ড ও দেশটির জনগণের পাশে রয়েছে। মানুষের নিরাপদে বসবাসের অধিকার রয়েছে।

১৯৮৯ সালের পর সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা

রাজধানী ওয়ারশ থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত ক্রাকো পোল্যান্ডের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় এ শহরে প্রতিবছর প্রায় দেড় কোটি দর্শনার্থী আসেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর সদস্য পোল্যান্ডে প্রাণঘাতী বন্দুক হামলার ঘটনা খুবই বিরল। ১৯৮৯ সালে দেশটিতে কমিউনিস্ট শাসনের পতনের পর শনিবারের হামলাকে সবচেয়ে প্রাণঘাতী বন্দুক হামলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালে ৫০ হাজারের বেশি লাইসেন্স দেওয়া হয়। এতে মোট লাইসেন্সের সংখ্যা দাঁড়ায় ৪ লাখ ১১ হাজারে।