ওয়ালটনের সাড়ে ৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ, পরিবেশক শামীমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির প্রায় ৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির পরিবেশক শামীম হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন ঢাকার একটি আদালত। মামলার নথি অনুযায়ী, কেরানীগঞ্জের আগানগরে অবস্থিত ‘হীরা ইলেক্ট্রনিক্স’-এর স্বত্বাধিকারী শামীম হোসেন এবং তার স্ত্রী সানজিদা বিনতে কামালের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বাদী ওয়ালটন গ্রুপের আইন বিভাগের অ্যাডিশনাল অপারেটিভ ডিরেক্টর মো. ফিরোজ খান।
তদন্ত শেষে পুলিশ চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে। পরে ২৬ এপ্রিল আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। সর্বশেষ ৯ জুলাই ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মাহাফুজুর রহমান আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
আরও পড়ুন: বহুল আলোচিত এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণ মামলায় রায়
মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরোয়ানা জারির দিন শামীম হোসেন আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন করেছিলেন। তবে আদালত জামিন না দেওয়ায় তিনি আদালত এলাকা ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ বলেন, "আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কপি এখনও থানায় এসে পৌঁছায়নি। পরোয়ানা হাতে পেলেই আইন অনুযায়ী তা কার্যকর করা হবে এবং আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হবে।"
আরও পড়ুন: ২৫ বছর পূর্ণের আগে পদত্যাগ করলে মিলবে না পেনশন সুবিধা
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, শামীম হোসেন ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট ওয়ালটনের এক্সক্লুসিভ ডিলার হিসেবে কেরানীগঞ্জের আগানগরে ব্যবসা শুরু করেন। প্রথমদিকে নিয়মিত লেনদেনের মাধ্যমে কোম্পানির আস্থা অর্জন করলেও পরবর্তীতে অধিক পরিমাণে বাকিতে পণ্য নিয়ে বকেয়া অর্থ পরিশোধে অনিয়ম শুরু করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে পণ্য গ্রহণের বিপরীতে অর্থ পরিশোধ না করায় ওয়ালটনের কাছে তার প্রতিষ্ঠানের বকেয়া দাঁড়ায় ৯ কোটি ৫৭ লাখ ২৪ হাজার ৩৭৮ টাকা ৮৬ পয়সা।
এজাহারে দাবি করা হয়েছে, পাওনা অর্থ আদায়ে ব্যর্থ হয়ে ওয়ালটন কর্তৃপক্ষ আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়। কোম্পানির অভিযোগ, বকেয়া অর্থ পরিশোধের পরিবর্তে আসামিরা নানা অজুহাত দেখিয়েছেন এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্নেরও চেষ্টা করেছেন।
তবে মামলার অভিযোগের বিষয়ে শামীম হোসেন বা তার আইনজীবীর কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।





