কাপাসিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগ

Sanchoy Biswas
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৮:০৫ অপরাহ্ন, ১০ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১২:১৪ পূর্বাহ্ন, ১২ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর কাপাসিয়া উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রমিতা ইসলামের বিরুদ্ধে ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সাবেক এমপি সিমিন হোসেন রিমি ও আ ক ম মোজাম্মেল হকের ঘনিষ্ঠ এ রমিতা ইসলাম কাপাসিয়ায় পোস্টিং পেয়ে দুর্নীতির মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা উপার্জন করে যাচ্ছেন।

জানা গেছে, কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফি দেওয়ার কথা নয়। কারণ, সরকারিভাবে প্রতিটি স্কুলে স্লিপ বরাদ্দের মাধ্যমে এ টাকা দেওয়া হয়ে থাকে। কিন্তু তিনি কাপাসিয়া উপজেলার ১৭৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে বাধ্য করেন পরীক্ষার ফি উত্তোলনের। প্রধান শিক্ষকরা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নিজ নিজ স্কুলে তৈরি করে পরীক্ষা নেওয়ার কথা থাকলেও তিনি নিজে সকল স্কুলের প্রশ্ন তৈরি করে বিতরণ করে লাখ লাখ টাকা উপার্জন করেন।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

এছাড়াও প্রতিটি স্কুল থেকে গড়ে দুই হাজার টাকা করে পরীক্ষার ফি উত্তোলন করে নিয়ে তিনি নিজে সে টাকা আত্মসাৎ করেন বলে শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন। এ ছাড়াও উপজেলা শিক্ষা অফিসের অডিটের জন্যও শিক্ষকদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে আদায় করে কয়েক লাখ টাকা উত্তোলন করেন তিনি।

বিগত বন্যার সময় বন্যার্তদের সাহায্যের নামে ১৭৯টি স্কুলের প্রতিটি শিক্ষকের কাছ থেকে ১ হাজার টাকা করে প্রায় ১৪ লাখ টাকা তুলে তিনি নিজে আত্মসাৎ করেছেন। এ বিষয়ে সরকারি কোনো নির্দেশনাও ছিল না।

আরও পড়ুন: ফরিদপুরে বাসচাপায় ৫ নিহত, বিক্ষুব্ধ জনতার আগুনে পুড়ল ৪ যানবাহন

শুধু তাই নয়, কাপাসিয়া ডায়াবেটিকস হাসপাতালে সহায়তার নাম করে প্রতিটি শিক্ষকের কাছ থেকে মাসে ৬০ টাকা করে আদায় করে তিনি নিজে আত্মসাৎ করছেন। স্কুলের শিক্ষার্থীদের সারা দেশে একই ড্রেস থাকার সরকারি নির্দেশ থাকলেও তিনি কাপড় কোম্পানির কাছ থেকে উৎকোচ নিয়ে আলাদা ড্রেস বানানোর নির্দেশ দেন। শিক্ষার্থীরাও এ ড্রেস বানাতে বাধ্য হন।

সিলেবাস ছাপানোর বিধান না থাকলেও তিনি নিজে সিলেবাস তৈরি করে ১৭৯টি স্কুলে সরবরাহ দিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছেন। ১০০ টাকার মূল্যায়ন রেজিস্টার ৫০০ টাকায় কিনতে বাধ্য করেন তিনি।

অন্যান্য উপজেলার মতো প্রতিটি বিদ্যালয়ের দরিদ্র দফতরিদের ঈদ বোনাস দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি তাদের ঈদ বোনাস থেকে বঞ্চিত করছেন। এর সঙ্গে সহযোগী হিসেবে এসব দুর্নীতিতে সহায়তা করছেন সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আরিফুল ইসলাম ও লুৎফুন নেছা।

এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মাসুদ ভুঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান। তবে বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।

উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে বারবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।