প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বন্যার্ত মানুষের পাশে সরকার: মাহদী আমিন

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৮:৪৪ অপরাহ্ন, ১১ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৯:৫৮ অপরাহ্ন, ১১ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সরকার সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দেশজুড়ে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে বিভিন্ন স্থানে বন্যা, পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি সংকটপূর্ণ।

আরও পড়ুন: ‘প্রতিটি ক্লাসে পাঁচ মিনিট নৈতিক শিক্ষা দিন’—শিক্ষকদের প্রতি প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের আহ্বান

মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করছেন। শুক্রবার তিনি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ জেলার বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন ও ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।

তিনি জানান, রোববার দেশের সব বিভাগীয় কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রধানমন্ত্রী আরও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন। পাশাপাশি ইউএনও, জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে উদ্ধার কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: দুর্যোগের পর থেকেই কোথায় কী লাগবে, সবই জানছেন প্রধানমন্ত্রী: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

মাহদী আমিন বলেন, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ইতোমধ্যে চট্টগ্রামে অবস্থান করে পরিস্থিতি তদারকি করছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা মাঠপর্যায়ে ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।

তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী দলীয় নেতাকর্মী ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোকেও বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন।

সরকারের মুখপাত্র জানান, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে জরুরি ভিত্তিতে ২ কোটি টাকার বেশি আর্থিক সহায়তা অনুমোদন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে চালসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

মাহদী আমিন জানান, উপকূলীয় এলাকায় কোস্টগার্ড, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বিজিবি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পানিবাহিত রোগ ও সাপের দংশন মোকাবিলায় মেডিকেল টিম, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ভ্যাকসিন প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, পানি নেমে গেলে দ্রুত সড়ক ও রেলপথ সংস্কারে এলজিইডি এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, মৎস্যচাষি, গবাদিপশুর খামারি ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

বর্তমানে সচল থাকা এক হাজারের বেশি আশ্রয়কেন্দ্রে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক পুনঃস্থাপনের কাজও চলছে বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন বলেন, সরকারের কার্যক্রম তিনটি ধাপে পরিচালিত হচ্ছে—উদ্ধার, ত্রাণ এবং পুনর্বাসন। দুর্যোগ মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সমন্বিত সরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।