দুর্ভোগে প্রায় ৩ লাখ মানুষ

কক্সবাজারে বন্যা ও পাহাড়ধসে ৭ দিনে ২৬ জনের মৃত্যু

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, ১১ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১০:০০ পূর্বাহ্ন, ১১ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

টানা ভারী বর্ষণ, বন্যা ও পাহাড়ধসে গত সাত দিন ধরে দুর্বিষহ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে কক্সবাজার। জেলার বিভিন্ন এলাকায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় তিন লাখ মানুষ। গত রোববার (৫ জুলাই) থেকে শুক্রবার (১০ জুলাই) পর্যন্ত পানিতে ডুবে ও পাহাড়ধসে অন্তত ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সর্বশেষ শুক্রবার দুপুরে চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নে বসতবাড়ি প্লাবিত হওয়ায় নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে ১২ বছর বয়সী হাসনাতুল জান্নাত ঝর্ণার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তার দুই বোনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: আদিতমারীতে অনলাইন জুয়ার আসর ভেঙে দিল পুলিশ, আটক ৪

এর আগে বৃহস্পতিবার চকরিয়ার কাকারা ইউনিয়নে পানিতে ডুবে দুই বছর বয়সী শিশু মোহাম্মদ ওয়াকিমের মৃত্যু হয়। একই দিন সকালে মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নে বন্যার পানিতে ভেসে মারা যায় তিন বছরের শিশু পুষ্প। এছাড়া ভোরে চকরিয়ার মছনিয়া কাটা এলাকায় পাহাড়ধসে একটি পরিবারের দুই শিশুর মৃত্যু হয়।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার সদর, পেকুয়া ও উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ বিভিন্ন এলাকায় আরও প্রাণহানির ঘটনায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬ জনে। নিহতদের মধ্যে ১৫ জন রোহিঙ্গা বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

আরও পড়ুন: কাপাসিয়ায় মাদক, চুরি ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

বন্যার কারণে জেলার ১০টি উপজেলার ৩৫টি ইউনিয়নের অন্তত ১৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা। এছাড়া সদর, রামু, উখিয়া, টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও ঈদগাঁও উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকাও পানির নিচে রয়েছে।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নূরুল ইসলাম জানান, বান্দরবান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে মাতামুহুরী নদীর পানি বেড়ে গিয়ে চকরিয়া ও পেকুয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার জানান, চকরিয়া ও মাতামুহুরীতে এক লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। ৯৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা দুর্গতদের শুকনো খাবারসহ জরুরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত ও স্লুইস গেট সচল রাখতে প্রশাসন সার্বক্ষণিক কাজ করছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজাদ রহমান বলেন, সরকারি হিসাবে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৬২ জন। এর মধ্যে ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন ১৪ হাজার ৬১ জন।

দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারিভাবে ২০০ টন চাল, ৪৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ১২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ত্রাণ বিতরণ ও জরুরি সহায়তা সমন্বয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ আবদুল হান্নান জানান, গত ছয় দিনে জেলায় ৭০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী দুই দিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এতে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি এবং নতুন করে পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, বিরূপ আবহাওয়ার কারণে সমুদ্রবন্দর ও উপকূলীয় এলাকার জন্য স্থানীয় সতর্ক সংকেত নম্বর ৩ বহাল রাখা হয়েছে।