মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার –কথিত মানবাধিকার কর্মী অ্যান্ডি হলের নানামুখী অপতৎপরতা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের পর যখনই দেশটির শ্রমবাজার খোলার দ্বার প্রায় উন্মুক্তের পথে ঠিক এই সময় ফের ভয়ানক ষড়যন্ত্র শুরু করেছে সংঘবদ্ধ একটি চক্র। এই চক্রের সদস্যদের আমন্ত্রণে অ্যান্ডি হল নামে এক জন মানবাধিকার কর্মী বাংলাদেশ সফরে এসেছেন। তিনি রবিবার (৫ জুলাই) প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হকের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। এসময় তিনি মন্ত্রীকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলা নিয়ে নেতিবাচক বক্তব্য দেন। এক পর্যায়ে তিনি মন্ত্রীর সঙ্গে বাক-বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারকে বাঁধাগ্রস্ত করতে অ্যান্ডি হল নামে কথিত এই মানবাধিকার কর্মীকে আমন্ত্রণ জানান বায়রার সাবেক যুগ্মমহাচিব ফকরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি চক্র। তাদের আমন্ত্রণে অ্যান্ড্রি হল বাংলাদেশে আসেন। তিনি রবিবার (৫ জুলাই) কয়েকজন রিক্রুটিং এজেন্সি মালিককে সঙ্গে নিয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে যান। তিনি মন্ত্রীকে শ্রমবাজার খোলার বিষয়ে বিভিন্ন নেতিবাচক বক্তব্য দেন। তিনি এফডব্লিউসিএমএস বন্ধ করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য দেন। তার বক্তব্যের এক পর্যায় মন্ত্রী তাকে বাজার খোলার বিষয়ে সরকারের ইতিবাচক সিদ্ধান্তের কথা জানান। এতে এনডি হল উত্তেজিত হয়ে মন্ত্রীকে হুমকি ধমকি দেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: খাদ্যে ভেজাল বিরোধী প্রতিষ্ঠানগুলো গতিশীল করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ৩ সদস্যের কমিটি
এবিষয়ে জানতে চাইলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন অ্যান্ডি হল নামে একজন ব্রিটিশ নাগরিক নিজেকে লেভার এ্যাক্টিভিস্ট ও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বিশেষজ্ঞ বলে দাবি করেন। পরে তিনি মন্ত্রীর সঙ্গে শ্রমবাজার নিয়ে কিছু বলেন। তার বক্তব্য যুক্তিযুক্ত না হওয়ায় আমলে নেওয়া হয়নি।
এদিকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর অ্যান্ডি হল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি ২০২৬ সালের নির্বাচনের পরে একটি উত্তেজনাপূর্ণ সময়ে অভিবাসন ও শ্রমিক উন্নয়ন ইস্যুতে গঠনমূলকভাবে অবদান রাখার প্রত্যাশা নিয়ে বাংলাদেশে এসেছি। গত ৫ জুলাইয়ের সরকারী উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকটি আমাকে হতাশ করেছে। আমি ১ জুলাই বাংলাদেশে যাই। ২, ৩ এবং ৪ জুলাই, আমি রিক্রুটিং এজেন্সি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং অভিবাসী শ্রমিক গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে গঠনমূলক বৈঠক করেছি। শ্রমবাজার সবার জন্য উন্মুক্ত করার বিষয়ে কথা বলেছি। কিন্তু আমার সঙ্গে সরকারি পর্যায়ের বৈঠকটি ফলপ্রসু হয়নি।’
আরও পড়ুন: তোমরাই আগামীর বাংলাদেশ এবং দেশ গড়ার মহান সৈনিক: ডা. জুবাইদা রহমান
অ্যান্ডি হলকে কারা কি কারনে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানিয়েছে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলেন, যারা দীর্ঘদিন থেকে কাউন্টার সেটিংয়ের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় লোক পাঠায় ওই চক্রের সদস্যরাই তাকে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ করছে। চক্রের নেতৃত্বে রয়েছে কাউন্টার সেটিংয়ের মাধ্যমে অবৈধ মানবপাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতোপূর্বে মালয়েশিয়ায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যবসায়ী আলতাব হোসেন (আফিফা ওভারসীস) ও রাজধানীর বারিধারা এলাকার হিউম্যান রিসোর্স ডেভলপমেন্ট সেন্টারের ফকরুল ইসলাম। তারা নিজেদের অবৈধ কারবার টিকিয়ে রাখতে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণে নিতে বিতর্কিত মানবাধিকার কর্মী অ্যান্ডি হলকে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তিনি মালয়েশিয়া ভিত্তিক ব্রাকের মাইগ্রেশন অ্যাক্টিভিস্টের সঙ্গেও বৈঠক করেছন।
জানা গেছে, অ্যান্ডি হল বৃটিশ নাগরিক। তিনি মালয়েশিয়া প্রবাসী একজন মানবাধিকার কর্মী ও লেভার এ্যাক্টিভিস্ট। তিনি মুলত বাংলাদেশের শ্রমবাজার বন্ধ রেখে নেপালকে সুবিধা দেওয়ার জন্য কাজ করে থাকেন। এছাড়া যারা অবৈধভাবে মালয়েশিয়া লোক পাচার করে ওই চক্রের সঙ্গেও অ্যান্ডি হল জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একই চক্রের আমন্ত্রণে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মালয়েশিয়া থেকে মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি অরগানাইজেশন ফর ফরেন ন্যাশনাল নাম সংগঠনের সভাপতি দাতোশ্রী থাইয়াগরাজ ও সাধারণ সম্পাদক ড. সুকমারানা এনকে নায়ার এবং দাতো মো. নোয়া বাংলাদেশে আসেন। মালয়েশিয়ার জনশক্তি রপ্তানির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কৌশল হিসেবে নিজিদের মালয়েশিয়া সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেন। এ ছাড়াও ওই ব্যক্তিরা নিজেদের মানবাধিকার কর্মী, মালয়েশিয়ান কেডিএনের লোক, মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর লোক, সেখানকার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইত্যাদি পরিচয় ব্যবহার করেন। তারা মালয়েশিয়ান সরকারের ইমিগ্রেশন সফটওয়্যার ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এফডব্লিউসিএমএস) সাময়িক বন্ধ রাখার নির্দেশনা চান। পরে একজন ব্যবসায়ী তাদের বিরুদ্ধে পল্টন থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন। জিডির তদন্তে জানা যায় তারা মালয়েশিয়ান সরকারের প্রতিনিধি ছিলেন না। বরং একটি সংঘবদ্ধ চক্রের আমন্ত্রণে মালয়েশিয়ার বাজার বন্ধ করতে বাংলাদেশে এসেছিল তারা।





