বগুড়া শহর এখন হকারদের দখলে, প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি

Sanchoy Biswas
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৫:৪৫ অপরাহ্ন, ০২ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বগুড়া শহরের চেলোপাড়া, ফতেহ আলী ব্রিজ এবং মাজার গেট থেকে সাতমাথা, থানা মোড়, বড়গোলা, খান্দার, কলোনি, ঠনঠনিয়া বাসস্ট্যান্ড, সূত্রাপুর, বাদুরতলা, পৌর পার্ক এলাকাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সড়কের বড় অংশজুড়ে দিন দিন হকারদের দখলদারিত্ব বেড়েই চলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনসাধারণ।

স্থানীয় জনসাধারণের দাবি, ফুটপাত তো অবৈধভাবে দখল আছেই, পাশাপাশি শহরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জায়গায়ও সড়কের অধিকাংশ অংশ দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করায় প্রতিনিয়ত যানজট ও জনদুর্ভোগ বাড়ছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি এআই-নির্মিত ছবি ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু বা পথ হকারদের দখলে চলে যাওয়ার সম্ভাব্য চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। যদিও ছবিটি বাস্তব নয়, তবে অনেকের মতে, এটি বর্তমান পরিস্থিতির প্রতীকী প্রতিফলন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসন মাঝে-মধ্যে নামমাত্র উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেও তা স্থায়ী সমাধান আনতে পারছে না। অভিযান শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ বা কিছুদিনের মধ্যেই আবারও আগের অবস্থায় ফিরে এসে অবৈধভাবে দখল করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: সাভারে শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘হাইক্কা ডাকাত’ গ্রেফতার

এতে সচেতন মহলের দাবি, নগরবাসীর নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি, কার্যকর উচ্ছেদ অভিযান এবং অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। অন্যথায় শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও অবকাঠামো ধীরে ধীরে সম্পূর্ণভাবে অবৈধ দখলে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানা যায়।

এ বিষয়ে বগুড়ার পুলিশ পরিদর্শক (প্রশাসন), শহর ও যানবাহন শাখা, সদর ট্রাফিক বিভাগের সালেকুজ্জামান খান বলেন, বগুড়া শহরের যানজটের মূল কারণ হচ্ছে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবৈধ দখলদারদের আধিপত্য। তাই এই অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে ফুটপাতগুলো উদ্ধার করে জনসাধারণের চলাচলের জন্য মুক্ত করতে হবে।

আরও পড়ুন: নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যায় কোমলমতি শিশুরা

তিনি আরও বলেন, অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে শুধু বগুড়া ট্রাফিক পুলিশ নয়, সিটি করপোরেশন, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, সুশীল সমাজ, স্থানীয় জনসাধারণ এবং জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। তবেই বগুড়া শহরকে যানজটমুক্ত করা সম্ভব হবে। শুধু ট্রাফিক বিভাগের পক্ষে এককভাবে শহরের যানজট নিরসন করা সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।