বিদ্যুৎ সরবরাহ চাহিদার অর্ধেকে, রেশনিংয়ে বিদ্যুৎ পাচ্ছে পটুয়াখালী; অতিষ্ঠ জনজীবন

Sanchoy Biswas
অপূর্ব সরকার, পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৫:৩৩ অপরাহ্ন, ১২ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১১:০৩ পূর্বাহ্ন, ১১ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পটুয়াখালীর জনজীবন। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অর্ধেকে নেমে আসায় জেলা শহরে রেশনিং পদ্ধতিতে এক ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং করা হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলেও ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি বেড়েছে।

পটুয়াখালী শহরের বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে থাকা ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) কর্মকর্তারা জানান, শহর ও আশপাশের এলাকায় তাদের প্রায় ৩৩ হাজার গ্রাহক রয়েছে। এসব গ্রাহকের জন্য গড় চাহিদা প্রায় ১৬ মেগাওয়াট। তবে মঙ্গলবার সরবরাহ পাওয়া গেছে মাত্র ৮ মেগাওয়াট।

আরও পড়ুন: কর্মধায় মানবিক রক্তদান সংস্থার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

ওজোপাডিকোর আওতাধীন আটটি ফিডারের মধ্যে একসঙ্গে চারটিতে লোডশেডিং করা হচ্ছে। এক ঘণ্টা পরপর ফিডার পরিবর্তন করে সরবরাহ দেওয়ায় কোনো এলাকায় বিদ্যুৎ ফেরার কিছুক্ষণ পরই আবার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

শহরের সদর রোড এলাকার নিউ কফি হাউসের মালিক রুহুল আমিন বলেন, ২৪ ঘণ্টায় পাঁচ থেকে ছয়বার পর্যন্ত বিদ্যুৎ চলে যায়। একবার বন্ধ হলে অন্তত এক ঘণ্টার আগে আসে না। এতে গরমের মধ্যে ক্রেতাদের ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে এবং বিক্রিও কমেছে।

আরও পড়ুন: সিলেটে বাসের চাপায় মা ও ৯ মাসের শিশু নিহত

বিদ্যুৎ না থাকায় কম্পিউটার, ফ্রিজ, ফটোকপি মেশিনসহ বিভিন্ন যন্ত্রনির্ভর ব্যবসায় কাজ ব্যাহত হচ্ছে। ক্ষুদ্র শিল্পকারখানার কোথাও উৎপাদন বন্ধ রাখতে হচ্ছে, আবার কোথাও বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবহারে বাড়ছে খরচ।

ওজোপাডিকোর পটুয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফারুক হোসেন বলেন, মঙ্গলবার মাত্র ৮ মেগাওয়াট সরবরাহ পাওয়া গেছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় এক ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং করতে হচ্ছে। সরবরাহ বাড়লে পরিস্থিতিরও উন্নতি হবে।

এদিকে পটুয়াখালী ও বরগুনার গ্রামাঞ্চলেও লোডশেডিং বেড়েছে। পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তারা জানান, দুই জেলায় তাদের প্রায় ৬ লাখ ৮৩ হাজার গ্রাহক রয়েছে। চাহিদা ১২০ থেকে ১৩০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ মেগাওয়াট।

পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার আবুল কাসেম বলেন, সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে। পিক আওয়ারে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় তখন পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় ঘুমেও ব্যাঘাত ঘটছে। দ্রুত বিদ্যুৎ বিভ্রাট কমানো না গেলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে, ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস নেমে আসবে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।