পুলিশের নথিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য

মেসিক ও রোনালদোকে বোমা মেরে হত্যার হুমকি

Any Akter
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৫১ অপরাহ্ন, ০৮ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১:০২ অপরাহ্ন, ০৮ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ চলাকালে খেলোয়াড়, রেফারি ও বিভিন্ন দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ঘিরে একাধিক গুরুতর নিরাপত্তা হুমকির ঘটনা ঘটেছে। ফাঁস হওয়া একটি পুলিশি নথিতে এসব হুমকির বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে। স্পেনের সংবাদমাধ্যম ‘ইনফরমাসিওনডট ইএস’ নথিটি দেখেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

নথি অনুযায়ী, বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা দল ছিল সন্ত্রাসী হুমকির অন্যতম লক্ষ্য। জর্ডানের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচের আগে এক ব্যক্তি ডালাস বিমানবন্দরে ফোন করে হুমকি দেন। তিনি দাবি করেন, তিনি ও আরও দুজন ‘হোমমেড বোমা’ ও একটি এআর-১৫ রাইফেল নিয়ে স্টেডিয়ামে হামলা চালাবেন। পুলিশের পাশাপাশি দুই দলের খেলোয়াড়দের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। বিশেষভাবে আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসিকে হত্যার কথা বলা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: অস্ট্রেলিয়া সফরের শুরুতেই বাংলাদেশের ইনিংস ব্যবধানে লজ্জার হার

আর্জেন্টিনা ও মিসরের ম্যাচ নিয়েও বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়। এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, তিনি আটলান্টার স্টেডিয়ামে ঢুকে শরীরে বাঁধা চারটি বোমা দিয়ে মেসিকে উড়িয়ে দিতে যাচ্ছেন। ম্যাচ চলাকালে আরেক ব্যক্তি পুলিশকে ফোন করে স্টেডিয়ামের গ্যালারির বিভিন্ন স্থানে তিনটি বোমা রাখার দাবি করেন। এরপর বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ও প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়ে স্টেডিয়াজুড়ে তল্লাশি চালানো হয়।

মেসির দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকেও ঘিরে নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। ফিফার এক কর্মী সন্দেহজনক এক ব্যক্তির বিষয়ে সতর্ক করেন। ওই ব্যক্তি রোনালদোর বিশ্বকাপকালীন থাকার জায়গার বিস্তারিত তথ্য জানতে চাইছিলেন। পরে আরেক উগ্র সমর্থক রোনালদোর হোটেলে ঢুকে তার সঙ্গে লিফটে ওঠার চেষ্টা করেন। পুলিশ তাকে আটক করলে তিনি দাবি করেন, রোনালদোর সঙ্গে শুধু একটি সেলফি তুলতে চেয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: মেসির জোড়া গোলে সান লুইসকে হারিয়ে ইন্টার মায়ামির দাপুটে জয়

বিশ্বকাপে বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে রেফারিদেরও হুমকির মুখে পড়তে হয়। আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচে সিদ্ধান্ত দেওয়ার পর ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপে ছয় হাজারের বেশি হুমকিমূলক বার্তা পাঠানো হয় বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। মিসরের সমর্থকেরা ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) উইলি দেলাজোদকেও ক্ষুব্ধ বার্তা ও মৃত্যুর হুমকি দেন।

ফ্রান্সের কাছে প্যারাগুয়ের হারের পরও ঘটে উদ্বেগজনক ঘটনা। প্যারাগুয়ের সমর্থকেরা কিলিয়ান এমবাপ্পের নাম লেখা একটি প্রতিকৃতি পুড়িয়ে দেন। রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা খেলোয়াড়কে লক্ষ্য করে বর্ণবাদী আক্রমণও চালানো হয়। এমনকি প্যারাগুয়ের এক সিনেটরও তার বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

মাঠে ভুল করা খেলোয়াড়েরাও হুমকি থেকে রেহাই পাননি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে সতীর্থ এরলিং হলান্ডকে গোলের সুযোগ তৈরি করে দিতে ব্যর্থ হওয়ার পর নরওয়ের স্ট্রাইকার আলেকজান্ডার সোরলোথ ও তার স্ত্রীকে মৃত্যুর হুমকি দেওয়া হয়। কলম্বিয়ার জামিন্তন কামপাজও পেনাল্টি মিস করার পর হুমকির মুখে পড়েন। বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর নিরাপত্তার কারণে তিনি দলের সঙ্গে দেশে ফিরতে পারেননি।

কলম্বিয়ার ফুটবলারদের ঘিরে এমন হুমকি নতুন নয়। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে আত্মঘাতী গোল করার পর কলম্বিয়ার ডিফেন্ডার আন্দ্রেস এসকোবারকে মাদক কারবারিদের হাতে প্রাণ হারাতে হয়েছিল।

দক্ষিণ কোরিয়া দলও গ্রুপ পর্ব থেকে প্রত্যাশার তুলনায় খারাপভাবে বিদায়ের পর কঠোর পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে ছিল। কোচ হং মিয়ং-বোকে ঘিরে জনরোষ তৈরি হয় এবং তাকে নিয়োগের প্রক্রিয়া নিয়েও পুলিশ তদন্ত করে।

এদিকে ইংল্যান্ড দলের মিডিয়া সেন্টারেও নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে। এক ব্যক্তি হাতে রেঞ্চ নিয়ে সেখানে ঢুকে সাংবাদিকদের সামনে চিৎকার শুরু করেন। বিশ্বকাপের সবচেয়ে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত আসরগুলোর একটি হিসেবে ইংল্যান্ড দলকে যুক্তরাষ্ট্রে তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে রাখা হয়েছিল।

ইংল্যান্ড দলের হোটেলকে সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে কার্যত দুর্গে পরিণত করা হয়। হোটেলের চারপাশে কংক্রিটের ব্যারিয়ার ও পর্দা স্থাপন করা হয়, যাতে সম্ভাব্য স্নাইপারদের দৃষ্টিসীমা বাধাগ্রস্ত হয়। ড্রোন হামলা ঠেকাতে নো-ফ্লাই জোনও কার্যকর করা হয়। পাশাপাশি হোটেলের বিপরীতে একটি কমান্ড সেন্টার স্থাপন করা হয়।

হোটেল ও পুরো কমপ্লেক্সের চারপাশে সশস্ত্র পুলিশ, নিরাপত্তাকর্মী এবং বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা টহল দেন। ফাঁস হওয়া পুলিশি নথির এসব তথ্য বিশ্বকাপের মাঠের বাইরের নিরাপত্তা ঝুঁকির একটি উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এনেছে। সূত্র: দ্য সান