বিটিআরসি ভবনে ভাঙচুর: ৫৫ জনের নামসহ অজ্ঞাত ৬০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৭:১৬ অপরাহ্ন, ০২ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৭:১৬ অপরাহ্ন, ০২ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

এনইআইআর (ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার) সিস্টেম চালুর প্রতিবাদে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ভবনে ভাঙচুর ও নাশকতার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ৫৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত আরও ৫০০ থেকে ৬০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আনুমানিক দুই কোটি এক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির দাবি করা হয়েছে।

মামলাটি করেছেন বিটিআরসির লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং বিভাগের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ আশরাফুজ্জামান জাহেদ।

আরও পড়ুন: এখন ভুল স্বীকার করলেও আওয়ামী লীগের আর সময় নেই: শফিকুল আলম

এজাহারে বলা হয়েছে, ১ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আগারগাঁও এলাকায় আন্দোলনকারীরা বিটিআরসি ভবনের সামনে জড়ো হয়। বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে আন্দোলন শুরু হলে তারা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভবনের কাচের দেয়ালসহ একাধিক স্থাপনা ভাঙচুর করে।

ভাঙচুরের সময় ভবনের সামনে পার্ক করা ৫১ আসনবিশিষ্ট একটি এসি স্টাফ বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-৭০৩৫) ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার আর্থিক ক্ষতি প্রায় এক লাখ টাকা। সব মিলিয়ে ভবন ও যানবাহনের ক্ষতি প্রায় দুই কোটি এক লাখ টাকা হয়েছে।

আরও পড়ুন: গুরুতর অসুস্থ ড. কামাল হোসেন, স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মোবাইল ফোন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে এনইআইআর সিস্টেম চালুর বিরোধিতা করে আসছিল। বিটিআরসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হলেও ১ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে সিস্টেম চালু করা হয়। এর জেরেই আন্দোলনকারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

নাশকতার সময় তারা ভবনের সামনে সড়ক অবরোধ করে, ফলে কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছালে দুষ্কৃতকারীরা পালানোর চেষ্টা করে। ৪৫ জনকে আটক করা হয়, যারা জিজ্ঞাসাবাদে আরও ১০ জন পলাতক আসামির নাম প্রকাশ করে এবং নাশকতার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা স্বীকার করে।

উল্লেখ্য, দেশের মোবাইল ফোন বাজারে অবৈধ ও আনঅফিশিয়াল হ্যান্ডসেট ব্যবহার রোধে সরকারের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ১ জানুয়ারি থেকে এনইআইআর সিস্টেম কার্যকর হয়েছে। এই ব্যবস্থায় মোবাইল নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত সকল ফোনের আইএমইআই নম্বর জাতীয় ডাটাবেইজে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। তবে শুরু থেকেই এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছে দেশের মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশ।