রাজধানীর আবাসিকে গ্যাস সংকট চরমে, বিপাকে হাজারো পরিবার

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:২৫ পূর্বাহ্ন, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১১:২৫ পূর্বাহ্ন, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় দিনের অধিকাংশ সময় গ্যাস না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা। নিয়মিত বিল পরিশোধ করেও ন্যূনতম সরবরাহ না পাওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

ঢাকার বহু এলাকায় তিতাসের পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় রান্নাবান্না প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার দিনের পর দিন স্বাভাবিকভাবে রান্না করতে না পেরে বাইরে থেকে খাবার কিনে কিংবা বৈদ্যুতিক চুলার ওপর নির্ভর করে চলছেন। এতে একদিকে খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশীদের ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ডসহ নানা কড়াকড়ি

গ্যাস সংকটের সুযোগ নিয়ে এলপি গ্যাসের বাজারেও তৈরি হয়েছে অস্থিরতা। সরকারি নির্ধারিত এক হাজার ২৫৩ টাকার পরিবর্তে কোথাও কোথাও ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে প্রায় দুই হাজার টাকায়। বাড়তি দাম দিয়েও অনেক এলাকায় এলপি গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ ভোক্তাদের।

ভুক্তভোগীরা জানান, যাত্রাবাড়ী, মাতুয়াইল, কাজলাপাড়, শনিরআখড়া, মগবাজারের নয়াটোলা, রামপুরা, বাড্ডা, মিরপুর, মোহাম্মদপুর হাউজিং সোসাইটি ও উত্তরাসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ দিনের বড় অংশজুড়ে থাকে না। কোথাও ভোররাতে বা গভীর রাতে কয়েক ঘণ্টার জন্য চুলা জ্বলে উঠলেও তা দিয়ে স্বাভাবিক রান্না সম্ভব হচ্ছে না।

আরও পড়ুন: মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

মিরপুর ১০ নম্বর এলাকার বাসিন্দা রেবা রেহানা জানান, অসুস্থ মায়ের সেবায় গরম পানি ও নিয়মিত রান্নার প্রয়োজন হলেও গভীর রাত পর্যন্ত চুলা জ্বলার অপেক্ষায় থাকা তার পক্ষে সম্ভব হয় না। ফলে বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে, যা ব্যয়বহুল এবং অস্বাস্থ্যকর।

যাত্রাবাড়ীর কাউন্সিলর বড়বাড়ী এলাকার অটোরিকশাচালক রিপন আহমেদের ভাষ্য, ভোরের পর থেকেই গ্যাসের চাপ একেবারে নেমে যায়। প্রতিদিন রান্নার জন্য মধ্যরাত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। রাত ১২টা বা ১টার দিকে অল্প সময়ের জন্য চুলা জ্বলে।

পুরান ঢাকার নাজিরমহল্লা, রায়সাহেব বাজার ও লক্ষ্মীবাজার এলাকার বাসিন্দারা জানান, গভীর রাত ছাড়া গ্যাস পাওয়া যায় না। সকালে শিশুদের স্কুলে পাঠানোর আগে খাবার গরম করতেও ইলেকট্রিক চুলার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে শিশুদের পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিতাস গ্যাসের তথ্যমতে, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে সিস্টেম লসের কারণে বিপুল পরিমাণ গ্যাস অপচয় হয়েছে। এই অপচয় দিয়ে প্রায় ৩০ লাখ চুলায় এক বছর ধরে তিন বেলা রান্না করা যেত। চুরি, অবৈধ সংযোগ, পুরোনো পাইপলাইনের লিকেজ ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতাকেই সিস্টেম লস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ জানুয়ারি দেশে গ্যাস উৎপাদন ছিল আগের বছরের তুলনায় কম। উৎপাদন কমার পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে আবাসিক খাতে গ্যাসের অংশ মাত্র ১০ শতাংশে নেমে এসেছে।

এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহনেওয়াজ পারভেজ বলেন, অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় এবং শিল্প খাতে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে গিয়ে আবাসিক এলাকায় চাপ পড়েছে। শীত মৌসুমে এমনিতেই গ্যাসের চাপ কম থাকে। উৎপাদন না বাড়ালে এ সংকট দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও পুরোনো কূপ সংস্কারের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোই দীর্ঘমেয়াদে এই সমস্যার সমাধান।