ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশসহ চার সংশোধনীতে উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদন

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:০২ অপরাহ্ন, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৮:৩২ অপরাহ্ন, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা সংশোধন অধ্যাদেশ–২০২৬সহ চারটি অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানানো হয়।

প্রেস সচিব জানান, ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা আইন নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের উদ্বেগ বিবেচনায় রেখে ডাটা লোকালাইজেশন নীতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে শুধুমাত্র ক্রিটিক্যাল ইনফরমেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচার–সংক্রান্ত তথ্য দেশে সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক হবে। ব্যক্তিগত উপাত্ত সংরক্ষণে কিছু শিথিলতা রাখা হয়েছে এবং কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে কারাদণ্ডের পরিবর্তে অর্থদণ্ডের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এতে বিদেশি বিনিয়োগ ও ক্লাউডভিত্তিক ডিজিটাল সেবা খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আরও পড়ুন: অলস শিল্পপ্রতিষ্ঠান হবে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের কেন্দ্র : বাণিজ্যমন্ত্রী

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি সংশোধন অধ্যাদেশ–২০২৬ সম্পর্কে জানানো হয়, একাডেমির বিভাগ সংখ্যা বৃদ্ধি করে নয়টি করা হয়েছে। নতুন কাঠামোতে থিয়েটার, চলচ্চিত্র, আলোকচিত্র, নৃত্য ও পারফরম্যান্স আর্ট, সংগীত, চারুকলা, গবেষণা ও প্রকাশনা, নিউ মিডিয়া এবং কালচারাল ব্র্যান্ডিং ও উৎসব প্রযোজনা বিভাগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি একাডেমির বোর্ডে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিধান সংযোজন করা হয়েছে, যা সাংস্কৃতিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াবে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ বনজ শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন অধ্যাদেশ–২০২৬–এর খসড়ায় ১৯৫৯ সালের অর্ডিন্যান্সকে যুগোপযোগী করে নতুন কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করে বনজ সম্পদের টেকসই ব্যবহার, পণ্য বৈচিত্র্য, শোরুম স্থাপন ও যৌথ উদ্যোগের সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। বৈঠকে উল্লেখ করা হয়, গত অর্থবছরে কর্পোরেশন কর-পূর্ব মুনাফায় ৫৩ কোটি টাকা এবং রাবার শিল্পে প্রথমবারের মতো ৬ কোটি টাকা লাভ করেছে।

আরও পড়ুন: দেশে যুক্ত হচ্ছে নতুন ৫ উপজেলা

এছাড়া হার্ট ন্যাশনালি ডিটারমাইনড কন্ট্রিবিউশন (এনডিসি–৩)-এর ভূতাপেক্ষ অনুমোদন দেওয়া হয়। এনডিসি–৩ অনুযায়ী, ২০২২ সালে বাংলাদেশের গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন ছিল ২০২.০৪ মিলিয়ন টন কার্বনডাই–অক্সাইড সমতুল্য, যা ২০৩৫ সালে ৪১৮.৪০ মিলিয়ন টনে পৌঁছাতে পারে। নতুন পরিকল্পনায় ৮৪.৯৭ মিলিয়ন টন নিঃসরণ হ্রাসের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে নিজস্ব সক্ষমতায় ২৬.৭৪ মিলিয়ন টন এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা পাওয়া গেলে ৫৮.২৩ মিলিয়ন টন কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান এবং উপ–প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।