নির্বাচনের আগে ১ লাখ ৩৩ হাজার পুলিশ সদস্যের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন: আইজিপি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের ইতিহাসে এই প্রথম পুলিশ সদস্যদের জন্য বিশেষ নির্বাচনী প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। তিনি জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে দেড় লাখ পুলিশ সদস্যের মধ্যে ১ লাখ ৩৩ হাজার জন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন এবং আগামী ২০ জানুয়ারির মধ্যে বাকি সদস্যদের প্রশিক্ষণ শেষ হবে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে রংপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ অডিটরিয়ামে রংপুর বিভাগে কর্মরত পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের অফিসার ও ফোর্সের সঙ্গে বিশেষ কল্যাণ সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন আইজিপি।
আরও পড়ুন: জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট প্রস্তুত ও শান্তিপূর্ণ হবে: প্রধান উপদেষ্টা
আইজিপি বাহারুল আলম জানান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশের সব ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ৮ হাজার ভোটকেন্দ্র এবং মধ্যম ঝুঁকিতে থাকা ১৬ হাজার কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের জন্য বডি ক্যামেরা সরবরাহ করা হবে।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা সভায় উপদেষ্টাদের স্পষ্টভাবে বলেছি— নির্বিঘ্নে আইন প্রয়োগের জন্য আমাকে পূর্ণ সমর্থন ও গ্রিন সিগন্যাল দিতে হবে। পুলিশ যদি ভয় পায় যে বড় দল বা প্রভাবশালী নেতারা গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন, তাহলে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হবে না।”
আরও পড়ুন: বিলুপ্ত প্রাণী সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা
আইজিপি আরও বলেন, আমরা নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগ করতে চাই। যদি পুলিশ অন্যায় করে, আপনারা অবশ্যই আমাদের ধরবেন। কিন্তু আইনের সঠিক প্রয়োগ যেন বাধাগ্রস্ত না হয়— এটিই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
নির্বাচনের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি জানান, পুলিশের পাশাপাশি প্রায় ৬ লাখ আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী নির্বাচনপূর্ব ও নির্বাচনকালীন সময়ে সহায়তায় থাকবে। সীমান্ত ও উপকূলীয় এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও কোস্ট গার্ডও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছে।
পুলিশ বাহিনীর অতীত ভূমিকা নিয়ে আত্মসমালোচনা করে আইজিপি বলেন, গত ১৫ বছরে পুলিশ দলীয় বাহিনীতে পরিণত হয়েছিল। জুলাই-আগস্টে বিপুলসংখ্যক আন্দোলনকারী শহীদ হয়েছেন। লোভী ও দলকানা কিছু সদস্যের কারণে পুরো বাহিনীর ওপর দায়ভার এসেছে। এসব বিচ্যুতি থেকে বেরিয়ে এসে পুলিশকে আবার পেশাদার ও নিরপেক্ষ বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছি।
অপরাধ নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অপরাধ শতভাগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। প্রতিবছর গড়ে সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার হত্যাকাণ্ড ঘটে। তবে আমাদের লক্ষ্য থাকবে— যেন একজন মানুষও প্রাণ হারায় না।
শরীফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে আইজিপি বলেন, এই ঘটনা পুরো জাতিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব। খুলনা অঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের অধিকাংশ ঘটনায় আমরা সঠিক তদন্ত করতে পেরেছি।
সংখ্যালঘু নিরাপত্তা প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, “বাংলাদেশে সব সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছে। তবে সুযোগসন্ধানীরা হামলা ও সহিংসতা চালানোর চেষ্টা করলে আমরা কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করছি। জুলাই-আগস্টের পর সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও মাজারে আক্রমণের ঘটনায় মামলা ও চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।”
তবে বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতাকে বড় সমস্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত রংপুর বিভাগে হত্যা মামলার মাত্র এক-তৃতীয়াংশের বিচার সম্পন্ন হয়েছে। মামলা জটের কারণে ১০ বছরেও বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা উৎসাহিত হচ্ছে। এটি একটি কাঠামোগত দুর্বলতা। বিশেষ আইন করে সরকারকে এ বিষয়ে নজর দিতে হবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী, জেলা পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।





