‘দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিজিবির নবীন সৈনিকদের জাগ্রত থাকতে হবে’
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের সর্বদা সজাগ ও দায়িত্বশীল থাকতে হবে। সীমান্ত রক্ষার মহান দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের শৈথিল্যের সুযোগ নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাইতুল ইজ্জতে অবস্থিত বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজ (বিজিটিসিঅ্যান্ডসি)-এর বীর উত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডে নবীন সৈনিকদের কুচকাওয়াজ ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
আরও পড়ুন: ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়ায় শিগগিরই ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, শৃঙ্খলাই একজন সৈনিকের প্রকৃত পরিচয়। যে সৈনিক আদেশ পালনে ও কর্তব্য রক্ষায় কখনো পিছপা হয় না, সেই প্রকৃত অর্থে বাহিনীর গর্ব। সততা, আনুগত্য, পেশাদারত্ব ও দায়িত্ববোধই একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীর মূল শক্তি।
তিনি আরও বলেন, প্রায় ২৩০ বছরের গৌরবময় ইতিহাসের অধিকারী বিজিবি আজ একটি সুসংগঠিত, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। দেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি চোরাচালান দমন, মাদক ও মানবপাচার প্রতিরোধ, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমন এবং অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দিয়ে বিজিবি জনগণের আস্থা অর্জন করেছে।
আরও পড়ুন: জুলাই অভ্যুত্থানের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের তুলনা করা অন্যায়: সংসদে ফজলুর রহমান
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিজিটিসিঅ্যান্ডসি গত ৪৪ বছর ধরে দক্ষ সীমান্তরক্ষী তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত ৭২টি ব্যাচকে সফলভাবে প্রশিক্ষণ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সর্বশেষ ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচে একসঙ্গে ৩ হাজার ২৩ জন নবীন সৈনিককে মৌলিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যা স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক।
তিনি জানান, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটির স্বাভাবিক ধারণক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি সংখ্যক রিক্রুটকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেও অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশনা ও বিজিবি সদর দপ্তরের নিবিড় তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে এই চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।





