সুবিধাবঞ্চিত যাত্রীদের কণ্ঠস্বর কবীর আহমেদ ভূঁইয়া, রেলপথ মন্ত্রণালয়ে জোরালো আবেদন

Sanchoy Biswas
সঞ্জীব ভট্টাচার্য্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৯:০৬ অপরাহ্ন, ০৯ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৪:০৫ পূর্বাহ্ন, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কসবা ও আখাউড়া রেলস্টেশনে প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য হুইলচেয়ার র‌্যাম্প সুবিধা এবং মহিলাদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেটসহ পৃথক অপেক্ষমান কক্ষ স্থাপনের দাবিতে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছেন কসবা-আখাউড়ার গণমানুষের প্রিয় নেতা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির নির্বাহী সদস্য ও ভূঁইয়া গ্লোবাল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আলহাজ কবীর আহমেদ ভূঁইয়া। ৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে এলাকাবাসীর পক্ষে তিনি এই আবেদনপত্র দাখিল করেন।

আবেদনপত্রে কবীর আহমেদ ভূঁইয়া উল্লেখ করেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা দেশের অন্যতম সীমান্তবর্তী জেলা এবং প্রাচীন ত্রিপুরার অংশ হিসেবে এর রয়েছে গৌরবময় ঐতিহ্য। বিশেষত আখাউড়া রেলস্টেশন উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন রেল জংশন হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রী এই তিনটি স্টেশন ব্যবহার করেন, যাদের মধ্যে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, মহিলা এবং দুগ্ধপোষ্য শিশুসহ মায়েদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। অথচ এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশনে প্রতিবন্ধী যাত্রীদের সহজে ওঠানামার জন্য কোনো হুইলচেয়ার র‌্যাম্পের ব্যবস্থা নেই এবং মহিলাদের জন্য কোনো পৃথক অপেক্ষমান কক্ষও নেই। ফলে প্রতিনিয়ত এই যাত্রীরা নানা দুর্দশা, কষ্ট ও বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন।

আরও পড়ুন: ফতেহপুর জামশেদীয়া দরবার শরীফে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন

আবেদনে তিনি আরও উল্লেখ করেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে অনুমোদিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার-সংক্রান্ত ঘোষণায় বাংলাদেশ অন্যতম স্বাক্ষরকারী দেশ। পাশাপাশি নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য বিলোপ-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সনদ বাস্তবায়নেও সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। এই প্রেক্ষাপটে উল্লিখিত তিনটি স্টেশনে প্রতিবন্ধীবান্ধব র‌্যাম্প এবং মহিলাদের জন্য পৃথক অপেক্ষমান কক্ষ স্থাপন শুধু মানবিক দায়িত্বই নয়, এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নেরও অংশ।

কবীর আহমেদ ভূঁইয়া দীর্ঘদিন ধরে কসবা-আখাউড়া অঞ্চলের সাধারণ মানুষের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। শুধু রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেই নয়, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়াতেও তিনি সদা সোচ্চার। ইপিজেড স্থাপন, সড়ক উন্নয়ন, স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ এবং আধুনিক উপশহর গড়ার উদ্যোগের পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ও মহিলা যাত্রীদের সুবিধার জন্য এই আবেদন প্রমাণ করে যে, তাঁর দৃষ্টি সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের কল্যাণে সমানভাবে নিবদ্ধ।

আরও পড়ুন: গরু কাটার ‘খাইট্টায়’ কাস্টমস কর্মীর মরদেহ ১৫ টুকরো, গ্রেপ্তার ২

এলাকার সচেতন মহল ও যাত্রীরা কবীর আহমেদ ভূঁইয়ার এই মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা বলছেন, একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে কেবল বড় প্রকল্পের কথা না ভেবে সাধারণ যাত্রীদের দৈনন্দিন কষ্টের কথা বিবেচনায় রেখে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করার এই উদ্যোগ তাঁর মানবিক সংবেদনশীলতার পরিচয় বহন করে। রেলপথ মন্ত্রণালয় দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে এলাকাবাসী আশাবাদী।