একই বাড়িতে ভাড়া থাকতেন ঘাতক ও নিহতের পরিবার

কথাকাটাকাটির জেরে বন্ধুর শিশুসন্তানকে হত্যা

Sanchoy Biswas
জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, আশুলিয়া
প্রকাশিত: ৫:৪৭ অপরাহ্ন, ২৬ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৭:২৭ অপরাহ্ন, ১১ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকার আশুলিয়ায় বন্ধুর সঙ্গে কথাকাটাকাটির জেরে প্রতিশোধ নিতে তাঁর পাঁচ বছরের শিশুসন্তান আব্দুর রহমান তাসিনকে (৫) হত্যা করেছেন সাইফুল ইসলাম (২৭)। একই বাড়িতে ভাড়া থাকতেন সাইফুল ও নিহত শিশুটির পরিবার। শিশুটির বাবা মো. শহিদ মিয়ার সঙ্গে সাইফুলের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গত ১৯ আগস্ট সন্ধ্যায় আশুলিয়ার ভাদাইল পশ্চিমপাড়া এলাকার একটি বাড়ির ছাদ থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় আব্দুর রহমানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় করা মামলায় সাইফুলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করার পাশাপাশি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন: দেশের ৬৪ জেলায় তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে আশুলিয়া থানায় সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম।

পুলিশ জানায়, ১৯ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাসা থেকে বের হয় আব্দুর রহমান। এরপর তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সন্ধ্যার দিকে বাড়ির মালিকের স্ত্রী রিনা বেগম ছাদে হাঁসকে খাবার দিতে গিয়ে একটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তা দেখতে পান। কাছে গিয়ে বস্তার ভেতর শিশুটির মরদেহ দেখতে পান তিনি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

আরও পড়ুন: আসামি ছাড়াতে থানায় ‘মব’ সৃষ্টির অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

পুলিশের ভাষ্য, শিশুটির গলায় লাল স্কচটেপ প্যাঁচানো ছিল। মুখের ভেতর চাল ও পলিথিন ঢোকানো এবং হাত-পা ও মুখে স্কচটেপ প্যাঁচানো অবস্থায় মরদেহটি বস্তায় ভরা ছিল।

এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা মো. শহিদ মিয়া অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় মামলা করেন। ২০ আগস্ট মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ২০০ ধারায় রুজু করা হয়।

তদন্তে নেমে পুলিশ সাইফুল ইসলামের ঘরে তল্লাশি চালায়। তাঁর দেখানো ও শনাক্ত করা স্থান থেকে একটি লাল রঙের শপিং ব্যাগ, দুটি ইলাস্টিক এবং ঘরের মেঝে ও খাটের নিচে ছড়িয়ে থাকা চাল উদ্ধার করা হয়। পরে সাইফুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, হত্যার রহস্য উদঘাটনে সাইফুলকে দুই দফায় মোট দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তিনি শিশু আব্দুর রহমানকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

নিহত আব্দুর রহমান জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার বাগবাড়ি এলাকার মো. শহিদ মিয়ার ছেলে। পরিবারের সঙ্গে নিয়ে আশুলিয়ার ওই বাড়ির নিচতলায় ভাড়া থাকতেন। মামলার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।