সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা
নতুন বেতন কাঠামোয় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছে বেতন কমিশন। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বনিম্ন বেতন নির্ধারণ করা হচ্ছে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন বেতন কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
আরও পড়ুন: ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারির ছুটির প্রজ্ঞাপন জারি
বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেল পাঁচটায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। সরকারের পক্ষ থেকে কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা চূড়ান্ত করা হবে।
জানা গেছে, প্রতিবেদন প্রণয়নের সময় অনলাইনে পরিচালিত জরিপে ২ লাখ ৩৬ হাজার অংশগ্রহণকারী মতামত দিয়েছেন। মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় ও সামগ্রিক জীবনমান বিবেচনায় নিয়ে এসব মতামত বিশ্লেষণ করেছে কমিশন।
আরও পড়ুন: নির্বাচনের দিন ও আগে সহিংসতার দায় আ.লীগের: অন্তর্বর্তীকালীন সরকার
বেতন কমিশন চলতি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিকভাবে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে। পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন শুরু হবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন, অর্থাৎ আগামী ১ জুলাই থেকে।
সূত্র জানায়, বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি যাতায়াত ভাতা বর্তমানে যেখানে ১১তম থেকে ২০তম ধাপে সীমাবদ্ধ, তা সম্প্রসারণ করে ১০ম থেকে ২০তম ধাপ পর্যন্ত দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
নতুন কাঠামোয় পেনশনভোগীদের পেনশনেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি আসছে। মাসিক ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রায় ১০০ শতাংশ, ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পাওয়া পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ এবং ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত পেনশন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ৭৫ বছরের বেশি বয়সী পেনশনভোগীদের জন্য চিকিৎসা ভাতা ১০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমানে বয়সভেদে চিকিৎসা ভাতা ৮ হাজার টাকা। ৫৫ বছরের কম বয়সী পেনশনভোগীদের জন্য চিকিৎসা ভাতা পাঁচ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
বাড়িভাড়া ভাতার ক্ষেত্রে প্রথম থেকে ১০ম ধাপে তুলনামূলক কম হারে এবং ১১তম থেকে ২০তম ধাপে তুলনামূলক বেশি হারে ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর সামরিক ও বিচার বিভাগের জন্য পৃথক বেতন কমিশন গঠনের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
এর আগে মঙ্গলবার অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, সরকারি চাকরিজীবীরা সন্তুষ্ট হবেন—এমন বাস্তবসম্মত সুপারিশই প্রতিবেদনে রাখা হয়েছে। তবে কমিশনের সব প্রস্তাব হুবহু বাস্তবায়ন নাও হতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অর্থ উপদেষ্টা জানান, প্রতিবেদন জমার পর একাধিক কমিটি তা যাচাই-বাছাই করবে। এই প্রক্রিয়ায় সাধারণত তিন থেকে চার মাস সময় লাগে। ফলে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হতে কিছুটা সময় লাগবে।
বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ২০১৫ সালের বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। দেশে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ।





