রেলওয়ের চীফ কমান্ড্যান্ট জহিরুল ইসলামের বদলী বানিজ্য
বাংলাদেশ রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনীর বদলি বাণিজ্যে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দুদকের মামলা ধামাচাপা দেয়ার জন্য কোটি টাকা যোগান দিতে গিয়ে গণ বদলির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও, বদলী বানিজ্য যেনো তার নিয়মিত অর্থের উৎস।
গত সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, এক অফিস আদেশের মাধ্যমে ৪ জন সিপাহীকে বদলি করা হয়েছে। নুরুজ্জামানকে সি আর বি থেকে নরসিংদীতে, ইয়াকুব আলীকে তেজগাঁও থেকে আইবি দেওয়ানগঞ্জ বাজারে, শামীম হাসানকে এ/বি চট্টগ্রাম থেকে আই/বি চট্টগ্রামে এবং নরেশ বালাকে কক্সবাজার থেকে এ/বি চট্টগ্রামে বদলি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ঈদে কাউন্টারে ভাড়ার চার্ট টানাতে হবে, ফিটনেসবিহীন বাসে মোবাইল কোর্ট: ডিএমপি কমিশনার
রেলওয়ে নিরাপত্তাবাহিনীর চীফ কমান্ড্যান্ট (পূর্ব) এর পক্ষে এই দপ্তরাদেশে স্বাক্ষর করেন আরএনবির এসি মোহাম্মাদ সালামত উল্লাহ।
গত ৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ৩ জনকে, ১৮ জানুয়ারি ৩ জনকে এবং ২১ জানুয়ারি ৪ জনকে বদলি করা হয়েছিল। এই চারটি দপ্তরাদেশ রেল নিউজের কাছে পৌঁছেছে। এর বাইরে আরও অনেককে বদলি করা হয়েছে যার দপ্তরাদেশ রেল নিউজ হাতে পায়নি। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, পূর্বাঞ্চলে যোগদানের পর দেড় মাসের মধ্যে ৩৭ জনকে বদলি করেছেন চীফ কমান্ড্যান্ট জহিরুল ইসলাম।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
গত মাসে বাংলাদেশ রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) শীর্ষ দুই পদে রদবদল করা হয়েছে। ৮ ডিসেম্বর রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের চীফ কমান্ড্যান্ট মো. আশাবুল ইসলামকে পশ্চিমাঞ্চলে এবং পশ্চিমাঞ্চলের চীফ কমান্ড্যান্ট জহিরুল ইসলামকে পূর্বাঞ্চলে বদলি করা হয়। ওই বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল রেলওয়ের উপপরিচালক জান্নাতুল ফেরদৌস জিসা স্বাক্ষরিত এক দপ্তরাদেশের মাধ্যমে।
একাধিক আরএনবি সদস্য রেল নিউজকে জানিয়েছেন, আরএনবিতে বদলি-বাণিজ্য ওপেন সিক্রেট বিষয়। ইনস্পেক্টর পদে বদলিতে এক লাখ থেকে দেড় লাখ, হাবিলদার পদে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ এবং সিপাহি পদে ৩০–৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়। তাদের মতে, বদলির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ লেনদেনই পরোক্ষভাবে নিয়মে পরিণত হয়েছে। বদলি ঠেকাতে বা পছন্দের জায়গায় যেতে শীর্ষ কর্তাদের অনুমতি ছাড়া কেউ পারছে না।
জহিরুল ইসলাম ১৯৯০ সালে সাঁটমুদ্রাক্ষরিক বা টাইপিস্ট পদে বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনে (পিএসসি) যোগদান করেন। ২০০০ সালে তিনি দ্বিতীয় শ্রেণি পদে পদোন্নতি পান। ২০০২ সালের ১০ সেপ্টেম্বর বিসিএস নন-ক্যাডারে (২১তম ব্যাচ) সহকারী কমান্ড্যান্ট পদে, ২০০৬ সালে কমান্ড্যান্ট এবং ২০২০ সালে চিফ কমান্ড্যান্ট পদে বাংলাদেশ রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনীতে পদোন্নতিপ্রাপ্ত হন।
কোটি টাকা দিয়ে দুদকের অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ধামাচাপা দেয়ার কাজটি তিনি করেছেন বলে অভিযোগ আছে। অভিযুক্তরা দুদকের চেয়ারম্যান বরাবর পুনঃরায় তদন্তের আবেদন করেছেন।
দুদকের ইস্যু এবং বদলী বানিজ্য নিয়ে কয়েকদিন আগে রেল নিউজ তার অফিসিয়াল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তিন দিন চেষ্টার পর সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, “ডিপার্টমেন্ট থেকে নিষেধ আছে, সাংবাদিকদের সাথে কথা বলা যাবে না।” কে বা কোন অফিস আদেশে এই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, তা জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।





