সেহরি, ইফতার ও তারাবির সময়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
সেহরি, ইফতার ও তারাবির সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল বুধবার মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন। এদিন সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের প্রতি জনগণের যে এত বিপুল জনসমর্থন সেটার জায়গা থেকে প্রধানমন্ত্রী আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, জনগণ আমাদের কাছ থেকে যে সুশাসন এবং জবাবদিহি চায়, সেক্ষেত্রে আমরা নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের যারা দায়িত্বে আছি, তারা যেন যে কোনো ধরনের প্রভাব এবং স্বজনপ্রীতির ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করি এবং বিশেষ করে দুর্নীতির প্রশ্নে যেন আমাদের একটা শক্ত অবস্থান থাকে।
আরও পড়ুন: মব পুরোপুরি বন্ধ তবে যৌক্তিক দাবিতে মিছিল করা যাবে: নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী
প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন, আগামীতে যে রমজান শুরু হচ্ছে, এই রমজানকে কেন্দ্র করে দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক রাখা প্লাস হচ্ছে সেহরি, ইফতার, তারাবির সময়টা যেন বিদ্যুৎ নিরবচ্ছিন্ন থাকে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেন স্বাভাবিক থাকে এবং সরকারের যে কমিটমেন্ট, বিশেষ করে নির্বাচনের সময় প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন জায়গায় জনসভায় যে বিষয়গুলো বলেছেন—ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড সেগুলো কীভাবে ইমিডিয়েটলি কিছু দৃশ্যমান কাজ করা যায়, সেই বিষয়গুলো নিয়েও তিনি আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন, আলোচনা করেছেন।
বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর একটি ঘোষণা ছিল যে, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বিষয়ে সরকারের একটি উদ্যোগ থাকবে। সেটি নিয়েও তিনি আলোচনা করেছেন যে, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বিষয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে কী করা যায়। সামগ্রিকভাবেই সব বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেহেতু আমি দুটো নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছি, আমাদের জায়গা থেকে আমরা একটা বিষয় তার দৃষ্টিতে আনার চেষ্টা করেছি যে, আমাদের শ্রমবাজারের বড় একটা অংশ তো মিডল ইস্ট বেসড। মিডল ইস্টের সঙ্গে কিন্তু শ্রমবাজারটা ওপেনের ক্ষেত্রে সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময় সেটার একটা ধারাবাহিকতা ছিল। কিন্তু মাঝখানে নানাবিধ কারণে সেটার একটা ছন্দপতন হয়েছে, বন্ধ হয়েছে অনেক জায়গার শ্রমবাজার। সেখানে শ্রমবাজার ওপেন করার জন্য যদি প্রধানমন্ত্রী একটি সফর দেন মিডল ইস্টে, সেটা আমাদের জন্য একটা সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন করতে পারে। আমাদের জায়গা থেকে এটিও বলেছি, তার জায়গা থেকে আরও কিছু পরামর্শ আমাদের দিয়েছেন যেগুলো কাজের ক্ষেত্রে আমরা মেনে চলবো। এছাড়া সরকার ১৮০ দিনের একটি পরিকল্পনা নেবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।
আরও পড়ুন: সরকারি গাড়ি ব্যবহার করবেন না প্রধানমন্ত্রী
এদিকে নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার চলাচলের সময় সড়কে জনসাধারণের যাতায়াতে যেন দুর্ভোগ না হয়-সে বিষয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। গতকাল বুধবার আইজিপি নিজেই এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার চলাচলের কারণে যেন সাধারণ জনগণের যাতায়াতে কোনো ধরনের ভোগান্তি না হয়-সে বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। ট্রাফিক ব্যবস্থা যেন স্বাভাবিক থাকে, সে বিষয়টি তিনি আমাকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন। আইজিপি বলেন, বুধবার তার মুভমেন্টের কারণে কিছু সড়কে আগে থেকে বন্ধ ছিল যান চলাচল। পরে যেন এটি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। গতকাল বুধবার নতুন সরকারের প্রথম কর্মদিবস। এদিন ঢাকা মহানগরজুড়ে সড়কে সড়কে লক্ষ্য করা গেছে ট্রাফিক পুলিশের ব্যাপক তৎপরতা। রাজধানীর ব্যস্ত মোড়গুলোতে বাড়তি সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায় ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের।
অপরদিকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরা। গতকাল বুধবার দুপুর ১২টায় প্রধানমন্ত্রী তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে যান। সেখানে তাঁরা পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত ও ফাতিহা পাঠ করা হয়। এর আগে বেলা ১১টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে প্রথমে এককভাবে এবং পরে মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে তিনি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সরকারপ্রধান স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে একটি বৃক্ষ রোপণ করেন এবং পরিদর্শন বইয়ে সই করেন। জিয়া উদ্যান থেকে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা সরাসরি সচিবালয়ে যান।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে শপথ নেন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। নতুন মন্ত্রিসভায় ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।





