আলী হোসেন ফকির নতুন আইজিপি নিয়োগে পুলিশে স্বস্তি
দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রধান দায়িত্বে নিয়োজিত বাংলাদেশ পুলিশের নতুন ইন্সপেক্টর জেনারেল নিযুক্ত হয়েছেন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির। মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তৌসিফ আহমদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে আইজিপি নিয়োগ করা হয়। তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে পুলিশ বাহিনীর ইন্সপেক্টর জেনারেল পদে চুক্তিভিত্তিক নিযুক্ত হওয়ায় বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছিল। বিশেষ করে পাঁচ আগস্ট গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী অবসরপ্রাপ্ত প্রায় ৭০ বছরের দুইজনকে পুলিশের আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ করায় পুলিশের মনোবল দুর্বল হয়েছিল। তাদের যোগদান অনুষ্ঠানে পুলিশ কর্মকর্তারা প্রতিবাদ করে বলেন, এতে নতুন যোগ দেওয়া কর্মকর্তাদের পদোন্নতি বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বিসিএস প্রশাসন বিভাগে ১৫তম ও ১৭তম কর্মকর্তারা সচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। কিন্তু পুলিশের কেউ ১৫-১৭তম কেউ গ্রেড ওয়ান পায়নি। এদের অনেকেই এখনো ডিআইজি পদে কর্মরত। পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা কর্মরত কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে আইজিপিসহ কমান্ডিং সকল উচ্চপদে নিয়োগের জন্য দাবি জানাচ্ছিল। মোহাম্মদ আলী হুসেন ফকিরের আইজিপি পদে নিয়োগে পুলিশ সদস্যরা স্বস্তি প্রকাশ করেছে। পুলিশ বাহিনী আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
নতুন নিয়োগ পাওয়া আইজিপি আলী হোসেন ফকির পুলিশ বাহিনীতে একজন দক্ষ কর্মকর্তা হলেও বঞ্চিত রাজনৈতিক প্রতিহিংসার নিষ্ঠুরতার হতভাগ্যের শিকার। স্বৈরাচারী সরকারের সময়ে দীর্ঘ সময় তাকে দফায় দফায় পদোন্নতিবঞ্চিত, ওএসডি ও চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হয়।
আরও পড়ুন: ফের রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব সরওয়ার আলম, এক বছরের চুক্তিতে নিয়োগ
মো. আলী হোসেন ফকির, অতিরিক্ত আইজি, এপিবিএন, বাংলাদেশ পুলিশ, ঢাকা মহোদয় ৫ এপ্রিল ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দে বাগেরহাট জেলার সদর থানাধীন এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যানেজমেন্টে বি.কম অনার্স, এম.কম এবং এমবিএ ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ১৯৯৫ সালে ১৫তম বিসিএসের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশে সহকারী পুলিশ সুপার পদে যোগদান করেন।
কর্মজীবনে তিনি অত্যন্ত সুনামের সাথে ডিআইজি, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ডিআইজি, এসপিবিএন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও উপ-পুলিশ কমিশনার, ডিএমপি, ঢাকা; পুলিশ সুপার, নেত্রকোনা, ফেনী ও মাগুরা জেলাসমূহ; কমান্ড্যান্ট, আরআরএফ, সিলেট এবং অধিনায়ক হিসেবে ৩ এপিবিএন, খুলনা; ৫ এপিবিএন, ঢাকা; ৭ এপিবিএন, সিলেটের দায়িত্ব পালন করেছেন।
আরও পড়ুন: বাহারুল আলমের আইজিপির চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল
তিনি বাংলাদেশ পুলিশের হয়ে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কসোভো ও আইভরি কোস্টে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি প্রশিক্ষণ এবং সরকারি কাজে যুক্তরাষ্ট্র, চীনসহ বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেন। বর্তমানে তিনি পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, ১৫তম বিসিএস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক, ১৫তম বিসিএস পুলিশ ফোরামের আহ্বায়ক, খুলনা ক্লাব এবং ঢাকা অফিসার্স ক্লাবের সদস্য। এছাড়াও এপিবিএন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকার সভাপতি, বাংলাদেশ পুলিশ হ্যান্ডবল ক্লাবের সভাপতি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে যুক্ত আছেন।
অতিরিক্ত আইজিপি মহোদয়ের সহধর্মিণী প্রফেসর নাসিমা ফেরদৌসী সরকারি তিতুমীর কলেজে ফিন্যান্স ডিপার্টমেন্টে বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত আছেন। পারিবারিক জীবনে তিনি এক পুত্র এবং এক কন্যা সন্তানের জনক। পুত্র কুয়েটে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এবং কন্যা বুয়েটে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে অধ্যয়নরত।





