বাংলাদেশের তেলবাহী জাহাজে বাধা দেবে না ইরান, জ্বালানি সরবরাহে স্বস্তি

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন, ১০ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১:০৬ অপরাহ্ন, ১০ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ আশ্বাস দিয়েছে ইরান। সরকারের অনুরোধে দেশটি জানিয়েছে, বাংলাদেশের জন্য তেলবাহী জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় কোনো বাধা দেওয়া হবে না।

জ্বালানি খাতের কর্মকর্তারা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন করিডর হরমুজ প্রণালি ঝুঁকির মুখে পড়ায় বাংলাদেশ সরকার ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ করে তেল ও এলএনজি বহনকারী জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার অনুরোধ জানায়।

আরও পড়ুন: রাজধানীতে পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন, সীমিত তেলে বাড়ছে ভোগান্তি

এতে সম্মতি জানিয়ে ইরান অনুরোধ করেছে, বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী জাহাজগুলো প্রণালিতে প্রবেশের আগে যেন তাদের জানানো হয়। ফলে দেশের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে তাৎক্ষণিক উদ্বেগ কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এরই মধ্যে সিঙ্গাপুর থেকে ২৭ হাজার টন ডিজেল নিয়ে একটি জাহাজ সোমবার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। এছাড়া চলতি সপ্তাহের মধ্যেই আরও চারটি জাহাজ প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টনের বেশি তেল নিয়ে বন্দরে পৌঁছাবে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন: তেজগাঁওয়ে ৪৭ মাথার খুলি উদ্ধার, গ্রেফতার ৪

এদিকে এপ্রিল মাসের চাহিদা পূরণে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় বিকল্প উৎস থেকে সরাসরি ক্রয়ের মাধ্যমে প্রায় তিন লাখ টন ডিজেল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিদ্যমান দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় জ্বালানি সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

স্বাভাবিক সময়ে দেশে দৈনিক ডিজেলের চাহিদা প্রায় ১২ হাজার টন হলেও বর্তমানে সরকার প্রতিদিন প্রায় ৯ হাজার টন সরবরাহ করছে। আসন্ন পাঁচটি চালানে আসা মোট প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার টন জ্বালানি দিয়ে প্রায় ১৬ দিনের জাতীয় চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তার আগ্রহ দেখিয়েছে চীন ও ভারত। ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানিয়েছেন, প্রয়োজনে বাংলাদেশকে জ্বালানি সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে তার দেশ।

এছাড়া ভারত থেকে অতিরিক্ত ডিজেল আমদানির সুযোগও রয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন এবং ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড-এর মধ্যে বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইন দিয়ে বছরে ১ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে।

সরকার সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে জরুরি ভিত্তিতে ডিজেল আমদানির জন্য বিকল্প উৎস খুঁজছে। পাশাপাশি বাজারে কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে সারাদেশে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।