জ্বালানি সংকট নয়, প্যানিক বায়িং সমস্যা: আসছে ‘ফুয়েল অ্যাপ’

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৭:০০ অপরাহ্ন, ০৭ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১:০০ পূর্বাহ্ন, ০৮ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দেশে জ্বালানির সরবরাহ কিছুটা কমলেও তা সংকটজনক নয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, মানুষের অতিরিক্ত কেনাকাটা বা ‘প্যানিক বায়িং’-ই বর্তমানে সমস্যার বড় কারণ। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সচিবালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, ২০২৫ সালের মার্চে ডিজেলের সরবরাহ ছিল ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৯৮ টন, যা ২০২৬ সালের মার্চে কমে হয়েছে ৩ লাখ ৬৩ হাজার ৫১২ টন। পেট্রোলের সরবরাহও কিছুটা কমে ৪৬ হাজার ৩৭১ টন থেকে ৩৯ হাজার ৯৯৮ টনে নেমে এসেছে। তবে অকটেনের সরবরাহ বেড়ে ৩৭ হাজার ৪৩৯ টনে পৌঁছেছে।

আরও পড়ুন: রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের প্রাণঘাতী হামলায় তীব্র নিন্দা জানাল বাংলাদেশ

তিনি বলেন, সরবরাহ কিছুটা কমলেও এটি বড় ধরনের সংকট নয়। বরং মানুষের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা থেকে অতিরিক্ত কেনা ও মজুত করার প্রবণতা তৈরি হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে জটিল করছে।

উপদেষ্টা আরও জানান, জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ও পাচার রোধে ইতোমধ্যে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এপ্রিল মাসে এখন পর্যন্ত ৭৪টি অভিযান পরিচালনা করে ১১৪টি মামলা করা হয়েছে এবং ৩ লাখ ১৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: সৌদিগামী ২ ফ্লাইট স্থগিত, যাত্রীদের বিমানবন্দরে যেতে নিষেধাজ্ঞা

বর্তমান মজুত পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ৬ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে ডিজেল মজুত রয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ১২২ টন, অকটেন ১০ হাজার ১৫১ টন এবং পেট্রোল ১৩ হাজার ৮০৫ টন।

মানুষ কতটুকু জ্বালানি কিনছে তা পর্যবেক্ষণের জন্য সরকার ‘ফুয়েল অ্যাপ’ চালু করতে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিপুল ভর্তুকির চাপ রয়েছে। বর্তমানে এই খাতে ৪৫ হাজার কোটি টাকার বেশি ভর্তুকি রয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্র, আদানি পাওয়ার, পেট্রোবাংলাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে বিপুল পরিমাণ বকেয়া রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার আপাতত জ্বালানির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তবে প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।