অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই দেখতে পুলিশের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৯:২৩ অপরাহ্ন, ১১ মে ২০২৬ | আপডেট: ৫:০০ অপরাহ্ন, ১২ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুলিশ কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে অপরাধীদের অপরাধী হিসেবেই দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সরকারের আপসহীন অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

সোমবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: এলজিইডির প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি বাড়ানোর নির্দেশ স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস দমনে কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় পুলিশ সদস্যদের রাজনৈতিক প্রভাবের মুখোমুখি হতে হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কারও রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করবেন না। যে অপরাধ করবে, তাকে অপরাধী হিসেবেই বিবেচনা করবেন। আইনের প্রয়োগ সবার জন্য সমান হতে হবে।”

তিনি বলেন, একটি শক্তিশালী, জবাবদিহিমূলক, আইনসম্মত ও জনবান্ধব রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের লক্ষ্য দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখা।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ওআইসিভুক্ত দেশের রাষ্ট্রদূতদের সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সরাসরি ভূমিকা পালন করছে। পুলিশ সদস্যরা দায়িত্বশীলতা ও সক্ষমতার পরিচয় দিলে নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনের পথে সরকার আরও এগিয়ে যেতে পারবে।

প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ বেড়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, অপরাধের ধরন পরিবর্তনের ফলে পুলিশ প্রশাসনের কার্যক্রমও বহুমাত্রিক হয়েছে। বর্তমানে “ট্রান্সন্যাশনাল অর্গানাইজড ক্রাইম” বৈশ্বিক বাস্তবতা হয়ে উঠেছে। তাই প্রতিটি পুলিশ কর্মকর্তাকে বহুমুখী দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

তিনি পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, শুধু পদোন্নতি বা পছন্দের পোস্টিংয়ের জন্য পেশাদারিত্বের সঙ্গে আপস করা উচিত নয়। প্রশাসনের প্রতিটি পদ গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত স্থানে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

ক্ষমতা ও পদ কোনো কিছুই স্থায়ী নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হয়, একইভাবে প্রশাসনের কোনো পদও চিরস্থায়ী নয়। তাই পুলিশ প্রশাসনকে দায়িত্বশীল ও পেশাদার আচরণের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে।

পুলিশ সদস্যদের কল্যাণে সরকার কাজ করে যাবে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রশাসনে নিয়োগ, বদলি ও পদায়নে সততা, মেধা ও দক্ষতাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ বিপদে পড়লে প্রথমেই পুলিশের শরণাপন্ন হয়। তাই জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ক হতে হবে আইনগত ও মানবিক।

তিনি বলেন, সরকার এমন একটি পুলিশ প্রশাসন চায়, যা হবে জনবান্ধব ও জনগণের আস্থাভাজন। কারণ, জনগণ সাধারণত পুলিশ প্রশাসনকে সরকারের প্রতিচ্ছবি হিসেবে বিবেচনা করে।

চব্বিশের ৫ আগস্ট-পরবর্তী পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, গত দেড় বছরে পুলিশ বিভিন্ন কঠিন পরিস্থিতি দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছে এবং অনেক ক্ষেত্রে মব ভায়োলেন্স নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে।

বর্তমান সরকার জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করতে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ যেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, সে বিষয়েও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকেও অংশ নেন তারেক রহমান। সেখানে তিনি ভিন্নমতের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বার্থে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “এই দেশটা আমাদের সবার। আমরা সবাই একই মতাদর্শের নাও হতে পারি। কিন্তু রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনের সময় ব্যক্তিগত মতাদর্শ যেন কাজের ক্ষেত্রে প্রভাব না ফেলে।”

তিনি আরও বলেন, ভিন্নমতের প্রতিফলন কেবল ভোটের বাক্সে হওয়া উচিত। দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মঞ্জুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এবং অতিরিক্ত আইজিপি এ কে এম আউলাদ হোসেন-সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে পুলিশের সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিভিন্ন সংকটে পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর উদ্যোগ নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।