আমাদের আবার শূন্য থেকে শুরু করতে হয়েছে: মির্জা ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে এবং দেশ গণতন্ত্রের পথে এগোতে শুরু করেছে।
শুক্রবার (২৯ মে) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা শহরের কালিবাড়ি মির্জা রুহুল আমিন মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: দায়িত্বে অবহেলায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ঢাকা সিটির দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তা বরখাস্ত
মির্জা ফখরুল বলেন, “আজকে বাংলাদেশে একটি সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের পর আমরা গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছি। একটি নির্বাচন হয়েছে, জনগণ সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। এর আগে একটি রিফর্ম কমিশন গঠন করা হয়েছিল এবং সেই সংস্কার প্রস্তাবের ওপর গণভোটও হয়েছে।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান সরকার একটি ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। ব্যাংক খাতসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক লুটপাট হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
আরও পড়ুন: নিজেই ড্রাইভ করে ঢাকার বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম দেখলেন প্রধানমন্ত্রী
মির্জা ফখরুল বলেন, “ব্যাংকগুলো খালি করে দেওয়া হয়েছে। প্রায় ৮০ লাখ কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। আমাদের আবার শূন্য থেকে শুরু করতে হয়েছে। গত তিন মাসে আমরা উন্নয়নের চেষ্টা করেছি। আগামী দিনগুলোতেও জনগণ ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা পেলে দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাব।”
সাংবাদিকতা পেশাকে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সাংবাদিকতা অত্যন্ত কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ পেশা। বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ এলাকায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বহু সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছেন। ফিলিস্তিন ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতেও সাংবাদিকদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। বাংলাদেশেও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে অতীতে অনেক সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।”
সংবাদ প্রকাশে বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশের আগে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়া উচিত। সাংবাদিকদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়া এখন অত্যন্ত শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠেছে। এটি সমাজকে যেমন পরিবর্তন করছে, তেমনি অনেক ক্ষেত্রে বিভ্রান্তিও সৃষ্টি করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও চরিত্রহননের ঘটনাও বাড়ছে। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক মো. পয়গাম আলী, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. শরীফুল ইসলাম শরীফসহ দলের অন্যান্য নেতাকর্মীরা।





