শোক, ত্যাগ ও সত্যের চেতনায় পালিত হলো পবিত্র আশুরা

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৭:৪৪ অপরাহ্ন, ২৭ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৭:৪৪ অপরাহ্ন, ২৭ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ত্যাগ, সত্য, ন্যায় ও আত্মোৎসর্গের অনন্য শিক্ষা স্মরণ করে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও গভীর ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সারা দেশে পালিত হয়েছে পবিত্র আশুরা। কারবালার মর্মন্তুদ ঘটনার স্মৃতিচারণে শিয়া সম্প্রদায়ের উদ্যোগে তাজিয়া মিছিল, মজলিশ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দিনব্যাপী ধর্মীয় কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে ছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। 

হিজরি ৬১ সনের ১০ মহররম কারবালার প্রান্তরে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসেন (রা.) এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে শাহাদাত বরণ করেন। মানবতা, ন্যায়বিচার ও ইসলামের আদর্শ সমুন্নত রাখতে তাঁদের এই আত্মত্যাগ মুসলিম উম্মাহর কাছে অনুপ্রেরণার এক অবিনাশী দৃষ্টান্ত।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া-চীন সফরের সাফল্যে সংসদে সর্বসম্মত ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত

গত বৃহস্পতিবার পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিয়া সম্প্রদায়ের উদ্যোগে তাজিয়া মিছিল, মজলিশ, কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। রাজধানীর ঐতিহাসিক হোসেনি দালান থেকে শুক্রবার সকাল ১০টায় বের হয় প্রধান তাজিয়া মিছিল। এতে হাজারো ধর্মপ্রাণ মানুষ খালি পায়ে অংশ নেন। শোকের প্রতীক হিসেবে কালো পোশাক পরিহিত অংশগ্রহণকারীরা বুক চাপড়ে ‘ইয়া হোসাইন, ইয়া হোসাইন’ ধ্বনির মাধ্যমে কারবালার বেদনাবিধুর স্মৃতিকে স্মরণ করেন।

মিছিলে ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে নিশান, আলম, পাঞ্জা ও দুলদুল ঘোড়াসহ বিভিন্ন প্রতীক বহন করা হয়। শোক, সংযম ও ধর্মীয় আবেগে মুখর এই মিছিল হোসেনি দালানের উত্তর ফটক থেকে বকশীবাজার, এতিমখানা মোড়, সায়েন্স ল্যাবরেটরি ও জিগাতলা হয়ে ধানমন্ডি লেকে পৌঁছে। সেখানে প্রতীকী তাজিয়া বিসর্জনের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।

আরও পড়ুন: চীন-মালয়েশিয়া সফরের সবটুকু অর্জন জনগণের: প্রধানমন্ত্রী

হোসেনি দালান ছাড়াও রাজধানীর বড় কাটারা ইমামবাড়া, মোহাম্মদপুর শিয়া মসজিদসংলগ্ন ইমামবাড়া, পুরানা পল্টন ইমামবাড়া এবং মগবাজার ইমামবাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে পৃথকভাবে মজলিশ, তাজিয়া মিছিল ও ধর্মীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। দেশজুড়েও বিভিন্ন ইমামবাড়া ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে পবিত্র আশুরা উপলক্ষে বিশেষ কর্মসূচি পালিত হয়।

দিনব্যাপী সব কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। প্রধান ইমামবাড়াগুলোতে সিসিটিভির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারির পাশাপাশি নেওয়া হয় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

ধর্মীয় চিন্তাবিদরা বলেন, কারবালার শিক্ষা কেবল একটি ঐতিহাসিক ঘটনার স্মরণ নয়; বরং সত্য, ন্যায়, ধৈর্য, ত্যাগ এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার এক চিরন্তন আহ্বান। পবিত্র আশুরা মুসলিম উম্মাহকে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ এবং ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার শিক্ষা দিয়ে যায়।