ঢাকার বাস ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তন
রাজধানীর যানজট নিরসন এবং সুশৃঙ্খল গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে পূর্বাচলে নবনির্মিত অস্থায়ী ডিপোতে বাস স্থানান্তর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে ২০টি বাস স্থানান্তরের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। একই সঙ্গে আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) থেকে ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালে বিআরটিসিসহ আন্তঃজেলা বাস প্রবেশ বন্ধ করা হয়েছে।
মহাখালী বাস টার্মিনালের সামনে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ এবং ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান।
আরও পড়ুন: শেখ হাসিনাকে আইনি প্রক্রিয়ায় ফেরানো হবে, দেশে এলে গ্রেফতার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে পূর্বাচলের অস্থায়ী ডিপোতে বাস স্থানান্তরের মাধ্যমে রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এই এলাকায় যানজট কমানো, যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন এবং সড়ক ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি নগরবাসীর নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উদ্বোধন শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে বাস স্থানান্তর কার্যক্রম শুরু হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নে পরিবহন মালিক, শ্রমিক এবং নগরবাসীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
আরও পড়ুন: জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল গুম-খুন ও ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভের বিস্ফোরণ: রাষ্ট্রপতি
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান, মহাখালী টার্মিনালের পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ, ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
এদিকে, পরিবহন ব্যবস্থাপনায় নতুন পরিবর্তনের অংশ হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার থেকে ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালে বিআরটিসিসহ কোনো আন্তঃজেলা বাস প্রবেশ করবে না। আপাতত এসব বাস সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে চলাচল করবে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির অতিরিক্ত মহাসচিব এ এস এম আহম্মেদ খোকন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঢাকার যানজট কমাতে এবং বাস টার্মিনালগুলোর কার্যক্রম পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন টার্মিনাল ও ডিপোর কার্যক্রম স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ কমবে এবং গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা আরও সুশৃঙ্খল হবে।





