৯ কোটি টাকা মানিলন্ডারিং মামলায় আলোচিত হরিদাস চন্দ্র তরুণী দাস গ্রেফতার

Any Akter
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:০৯ অপরাহ্ন, ১৩ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১২:১৪ অপরাহ্ন, ১৩ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দেশজুড়ে আলোচিত গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর রামমূর্তি নির্মাণকারী হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উত্তরা পশ্চিম থানার একটি অর্থ পাচার (মানি লন্ডারিং) মামলায় পলাশবাড়ীর রাম মন্দির থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। বর্তমানে তাঁকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে রাখা হয়েছে এবং আজ দুপুরে ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও গাইবান্ধা জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আলোচিত হরিদাস চন্দ্রের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অর্থ পাচার অপরাধের তদন্ত চলছিল। উত্তরা পশ্চিম থানায় তাঁর বিরুদ্ধে সিআইডির একটি মামলা দায়েরের পর তাঁকে গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সিআইডির একটি বিশেষ দল ঢাকা থেকে গিয়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে পলাশবাড়ীর আস্তানা থেকে তাঁকে আটক করে। জেলা পুলিশ ও সিআইডির প্রাথমিক প্রক্রিয়া শেষে রাতেই তাঁকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। আজ আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিআইডি তাঁর রিমান্ড আবেদন করতে পারে।

আরও পড়ুন: অটোরিকশা চালককে অজ্ঞান করে হত্যার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসিম উদ্দিন জানান, মামলা ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে অবহিত করা হবে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, ডিএসবি গাইবান্ধার তথ্য ও সিআইডির নির্দেশনার ভিত্তিতে ২০২৬ সালের ২ জুলাই অভিযোগটির অনুসন্ধান শুরু হয়। অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়, হরিদাস চন্দ্র তরনীদাস ব্যবসার আড়ালে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার এবং হুন্ডি কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।

আরও পড়ুন: হানিট্র্যাপের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগ, গ্রেফতার ৫

সিআইডির অনুসন্ধানে অভিযুক্তের নামে পাঁচটি ব্যাংক হিসাব এবং চারটি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাব বিশ্লেষণ করা হয়। এতে ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এসব হিসাবে মোট ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৩২ হাজার ৪৫১ টাকা জমা এবং ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৬৫ হাজার ৫২৮ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া যায়।

এজাহারে বলা হয়েছে, বিভিন্ন ব্যক্তি ব্যবসাবহির্ভূতভাবে এসব হিসাবে নগদ অর্থ জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে মো. সুজন নামে এক ব্যক্তি ২০২৫ সালের বিভিন্ন সময়ে অভিযুক্তের একাধিক ব্যাংক হিসাবে মোট ২ কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা জমা দেন, যা প্রাথমিকভাবে হুন্ডির অর্থ বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।