রাজধানীতে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে আসছে নীতিমালা, সচল হবে ট্রাফিক ক্যামেরা
রাজধানীতে যন্ত্রচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. মাসুদ করিম। একই সঙ্গে যানজট নিরসনে ট্রাফিক ক্যামেরা সচল এবং চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। রোববার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, আইনশৃঙ্খলা, যানজট পরিস্থিতির উন্নয়ন ও ট্রেড লাইসেন্স সেবা নিয়ে এ সভার আয়োজন করে ডিসিসিআই ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। অনুষ্ঠানে লাইসেন্স নবায়ন সেবা সপ্তাহের উদ্বোধন এবং নবায়ন করা ট্রেড লাইসেন্স বিতরণ করা হয়।
আরও পড়ুন: যেকোনো সময় ঘোষণা হতে পারে নবম পে স্কেল: মুখ্য সচিব
যন্ত্রচালিত অটোরিকশা প্রসঙ্গে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, রাজধানীতে এসব যানবাহন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে এবং সমস্যাটির স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ও অত্যন্ত আন্তরিক।’
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের মালামাল চুরি: সহকারী পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার
রাজধানীর যানজট নিরসনে ট্রাফিক ক্যামেরা সচল করার উদ্যোগের কথাও জানান মাসুদ করিম। তিনি বলেন, ‘যানজট নিরসনে ট্রাফিক ক্যামেরাগুলো সচল করা হবে। আমরা ক্যামেরাগুলো সচল করতে চাই।’
ঢাকাকে নিরাপদ শহর হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, ছোট ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে বড় পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে। রাজধানীতে চাঁদাবাজির বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে জানান ডিএমপির এই কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, পুলিশ সদস্যদের চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোরভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সভায় ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্স অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক দলিল। তবে নিবন্ধন ও নবায়ন প্রক্রিয়ায় তথ্যের ঘাটতি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে অস্পষ্টতা, একাধিকবার অফিসে যাতায়াত এবং বিভিন্ন ধাপে সময়ক্ষেপণের কারণে ব্যবসায়ীদের হয়রানির শিকার হতে হয়।
তিনি ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত করার আহ্বান জানান। ভবিষ্যতে ব্যবসায়ীরা যাতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নিজেরাই প্রয়োজনীয় সেবা নিতে পারেন, সে সক্ষমতা তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান জানান, রাজস্ব আয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত হলো হোল্ডিং ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্স। বর্তমানে ডিএসসিসির আওতায় ইস্যু করা মোট ২ লাখ ৪৬ হাজার ১৮টি ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে।
তিনি জানান, ব্যবসার ধরন, প্রকৃতি, শ্রেণি ও সাইনবোর্ডের পরিমাণ অনুযায়ী সিটি করপোরেশন আইন ২০০৯ এবং আদর্শ কর তফসিল ২০১৬ অনুসারে ২৯৪ ধরনের ব্যবসার জন্য ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হয়।
ডিএসসিসির ১০টি আঞ্চলিক অফিসে ১০ জন প্রধান কর আদায়কারী কর্মকর্তা, ৩০ জন ডেপুটি ট্যাক্স অফিসার এবং ৪০ জন কর-লাইসেন্স সুপারভাইজার দায়িত্ব পালন করছেন বলেও জানান তিনি। সভায় ডিএসসিসির কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।





