বেবিচকে বেসামরিক বিমান চলাচলের হুমকি ও ঝুঁকি মোকাবিলায় CATRAC-এর ২য় সভা

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৭:২১ অপরাহ্ন, ২০ অগাস্ট ২০২৬ | আপডেট: ৮:৪০ অপরাহ্ন, ২০ অগাস্ট ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে সম্ভাব্য হুমকি ও ঝুঁকি নিয়মিত মূল্যায়ন, গোয়েন্দা তথ্যের কার্যকর আদান-প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদারের লক্ষ্যে Civil Aviation Threat and Risk Assessment Committee (CATRAC)-এর দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদর দপ্তরে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন CATRAC-এর সভাপতি ও বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোঃ মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।

আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতির শপথের সঙ্গে সঙ্গে এমপি ও মন্ত্রী পদ শূন্য হবে: চিফ হুইপ

সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বেবিচক, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এয়ার ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর এবং বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষ শাখাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

স্বাগত বক্তব্যে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বেসামরিক বিমান চলাচল খাত সন্ত্রাসবাদ, সাইবার ঝুঁকি, Insider Threat, IED ও Drone হামলাসহ বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এসব হুমকি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত

তিনি বলেন, ICAO-এর Annex 17 অনুযায়ী নিয়মিত নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়নে CATRAC গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ইতোমধ্যে Civil Aviation Risk Context Statement (CARCS) চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের পদ্ধতি সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। এসব কার্যক্রম আসন্ন ICAO Universal Security Audit Programme–Continuous Monitoring Approach (USAP-CMA) অডিটের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

সভায় CATRAC-এর প্রথম সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি বর্তমান ও উদীয়মান নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় বিমানবন্দরগুলোর সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের ওপর।

সভায় ফিশিং, পাসওয়ার্ড চুরি, অননুমোদিত প্রবেশ এবং যাত্রী ও ফ্লাইটসংক্রান্ত তথ্য চুরিসহ বিভিন্ন সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলায় বেবিচকের নেওয়া পদক্ষেপগুলো তুলে ধরা হয়।

সভায় জানানো হয়, National Civil Aviation Security Programme (NCASP) ও Airport Security Programme (ATSP)-তে Cybersecurity অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং Civil Aviation Cybersecurity Directives জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া Bangladesh Computer Council (BCC)-এর e-Gov CIRT-এর সঙ্গে Cybersecurity Audit সম্পাদনের জন্য সমঝোতা স্মারক (MoU) সম্পন্ন হয়েছে।

দেশের বিমানবন্দরগুলোকে Critical Information Infrastructure (CII) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং National Cybersecurity Agency (NCSA) থেকে নিয়মিত নির্দেশনা গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও সভায় জানানো হয়।

এ ছাড়া Aircraft Search-এর প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণে Higher-Risk Designation List (HRDL) প্রণয়নের জন্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সভায় পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলা, সময়োপযোগী গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং আন্তঃসংস্থা সমন্বয় আরও জোরদারের বিষয়ে বিভিন্ন মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

সমাপনী বক্তব্যে বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত ও সুপারিশ যথাযথভাবে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার আন্তরিক সহযোগিতা ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সময়োপযোগী তথ্য আদান-প্রদান ও পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সভায় বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মোঃ আসিফ ইকবাল বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা পরিবেশে হুমকি ও ঝুঁকি মূল্যায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কার্যকর ঝুঁকি মূল্যায়ন, যথাযথ তথ্য বিনিময় এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম ICAO-এর আসন্ন নিরাপত্তা অডিট সফলভাবে মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সভাপতি সক্রিয় অংশগ্রহণ ও গঠনমূলক মতামতের জন্য সভায় উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং CATRAC-এর দ্বিতীয় সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য, CATRAC-এর পরবর্তী সভা ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে আয়োজনের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।