আটক ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার না দেখালে ‘গুম’ হিসেবে গণ্য হবে: চিফ প্রসিকিউটর

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৫:১৫ অপরাহ্ন, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৬:২৩ অপরাহ্ন, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কোনো ব্যক্তিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আটক করার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদালতে হাজির করে গ্রেপ্তার না দেখানো হলে বিষয়টি আর সাধারণ আটক হিসেবে বিবেচিত হবে না বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার পরের সময়কে গুমের ঘটনা হিসেবে গণ্য করার সুযোগ তৈরি হবে। এ ক্ষেত্রে আটক ব্যক্তির আইনগত অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবারের কাছে তার অবস্থান জানানোর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: ঢাকা ইপিজেডে দুটি আধুনিক ওয়েব্রিজ উদ্বোধন করলেন বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান

এর আগে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’ এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন পাস হয়। নতুন আইনকে গুমের অভিযোগের বিচার ও প্রতিকারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন চিফ প্রসিকিউটর।

গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন পাস হওয়াকে স্বাগত জানিয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনগত মাইলফলক। এর আগে এ বিষয়ে একটি অধ্যাদেশ থাকলেও তার কার্যকর প্রয়োগ দেখা যায়নি। নতুন আইন গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের বিচার এবং প্রতিকার পাওয়ার পথ আরও সুস্পষ্ট করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আরও পড়ুন: রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ে দেশের অর্থনীতি ও ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ: প্রধানমন্ত্রী

চিফ প্রসিকিউটর জানান, অতীতে সংঘটিত গুমের অভিযোগগুলোও নতুন আইনের আলোকে পর্যালোচনা করা হবে। এতে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের বিচার পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারের নতুন আইনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইনের কোনো সাংঘর্ষিক অবস্থান তৈরি হবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত ২৫১টি গুমের ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে তদন্ত করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। এসব ঘটনায় একই ধরনের পদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ায় ঘটনাগুলোকে ‘ব্যাপক ও পদ্ধতিগত হামলা’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আমিনুল ইসলাম।

ইতোমধ্যে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের জবানবন্দি নেওয়া শুরু হয়েছে বলেও জানান চিফ প্রসিকিউটর।