রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ে দেশের অর্থনীতি ও ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ: প্রধানমন্ত্রী

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩:৩৫ অপরাহ্ন, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৪:১৬ অপরাহ্ন, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে রাখায় বাংলাদেশের অর্থনীতি, অবকাঠামো ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে জাপান সরকারের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।

বৈঠকে ইয়োহেই সাসাকাওয়া জানান, প্রায় ৫০ বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্য নিরসনে কাজ করছেন তিনি। মিয়ানমারবিষয়ক জাপান সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে তার ভূমিকার বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন তিনি।

আরও পড়ুন: সংসদে আরও ১০ স্থায়ী কমিটি গঠন, দায়িত্ব পেলেন যারা

রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে উল্লেখ করে সাসাকাওয়া বলেন, এ পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি অবগত। রোহিঙ্গাদের সহায়তায় জাপান সরকারের বিভিন্ন অনুদান ও মানবিক সহযোগিতার বিষয়ও তিনি তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ সফরের জন্য জাপানের বিশেষ দূতকে ধন্যবাদ জানান এবং তার দীর্ঘদিনের মানবিক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। রোহিঙ্গা সংকটকে বাংলাদেশের অন্যতম বড় সংকট হিসেবে উল্লেখ করে এ সংকট মোকাবিলায় জাপান সরকারের সহযোগিতার জন্যও তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।

আরও পড়ুন: সাইফুর রহমানের মৃত্যু নিছক গাড়ি দুর্ঘটনা নাকি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র: প্রশ্ন রিজভীর

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ এমনিতেই একটি জনবহুল দেশ। দীর্ঘ সময় ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার কারণে দেশের অর্থনীতি, অবকাঠামো ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে নিজের অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার জন্য জাপানের বিশেষ দূতের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে প্রত্যাবাসনের পর মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত বলে জানান তিনি।

বৈঠকে ইয়োহেই সাসাকাওয়া বলেন, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে। মিয়ানমার সরকার সংকট সমাধানে আন্তরিক বলে তিনি মনে করেন। তবে রাখাইন প্রদেশের বর্তমান জটিল পরিস্থিতির কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে অগ্রগতি হতে সময় লাগছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সব ধরনের সহযোগিতা করতে আগ্রহী জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজ দেশে ফিরে গেলে রোহিঙ্গাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে। জাপানের বিশেষ দূত প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করে বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে তার অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন তিনি।

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে শুধু দ্বিপক্ষীয় প্রচেষ্টার ওপর নির্ভর না করে বহুপক্ষীয় উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে একটি ভ্যাকসিন উৎপাদনকেন্দ্র স্থাপনে জাপানের সহযোগিতা কামনা করেন। বিষয়টি নিয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবেন বলে জানান ইয়োহেই সাসাকাওয়া।

এ ছাড়া বাংলাদেশ জাপানের বিনিয়োগ পেতে আগ্রহী এবং দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও উন্নত করার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন তিনি।

বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।