সালমান শাহকে হারানোর ৩০ বছর
সালমান শাহর অসমাপ্ত সিনেমাগুলোর যেভাবে সমাপ্তি ঘটেছিল
একজন নায়ক হঠাৎ চলে গেলেন, কিন্তু পর্দায় তখনো বাকি তার অনেক গল্প। শুটিং চলছিল, ক্যামেরা প্রস্তুত, অপেক্ষা শুধু নায়কের। ১৯৯৬ সালে সালমান শাহর আকস্মিক মৃত্যুতে তাই শুধু একটি তারকার জীবনই থেমে যায়নি, থমকে দাঁড়িয়েছিল তার অভিনীত বেশ কয়েকটি সিনেমার গল্পও। কোথাও শেষ দৃশ্য, কোথাও গানের শুটিং, আবার কোনো সিনেমার গুরুত্বপূর্ণ অংশই তখনো বাকি। সালমানকে ছাড়া সেই গল্পগুলো কীভাবে শেষ হবে—এই কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়েছিলেন নির্মাতারা।
সালমান শাহকে ছাড়া কীভাবে এসব সিনেমার কাজ শেষ হবে—এ প্রশ্নে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন নির্মাতারা। শেষ পর্যন্ত গল্পে পরিবর্তন, ডামি শিল্পীর ব্যবহার এবং নতুন অভিনেতাকে যুক্ত করার মতো নানা কৌশল নিতে হয় তাদের। এভাবেই অসমাপ্ত অবস্থায় থাকা বেশ কয়েকটি সিনেমা শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখে।
আরও পড়ুন: বাংলা চলচ্চিত্রের ‘অমর নায়ক’ সালমান শাহ-কে নিয়ে যত আয়োজন
সালমান শাহর মৃত্যুর পর ১৯৯৬ সালেই মুক্তি পায় ‘সত্যের মৃত্যু নেই’, ‘জীবন সংসার’, ‘মায়ের অধিকার’ ও ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’। এসব সিনেমার মূল কাজ আগেই শেষ হয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন ছাড়াই এগুলো মুক্তি দেয়া সম্ভব হয়েছিল।
তবে ‘প্রেম পিয়াসী’র ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। সিনেমাটির শেষ দৃশ্য এবং কয়েকটি গানের শুটিং তখনো বাকি। সালমানের অনুপস্থিতি সামাল দিতে গল্পের কেন্দ্রীয় গুরুত্ব সরিয়ে নেয়া হয় নায়িকা শাবনূরের চরিত্রের দিকে। কিছু দৃশ্যে ডামি ব্যবহার এবং চিত্রনাট্যে পরিবর্তন এনে শেষ করা হয় সিনেমাটি। শেষ পরিণতিতে নায়ক-নায়িকার আত্মহননের দৃশ্য দেখানো হয়।
আরও পড়ুন: সালমান শাহকে স্মরণে মৌসুমী
‘স্বপ্নের নায়ক’-এর প্রায় অর্ধেক কাজ বাকি থাকতেই চলে যান সালমান। নির্মাতারা গল্পে তার চরিত্রের সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর বিষয়টি যুক্ত করে কাহিনি এগিয়ে নেন। পরে গল্পে যুক্ত হন আমিন খান।
‘শুধু তুমি’র শুটিং হয়েছিল মাত্র ৩০ শতাংশের মতো। সালমানকে ছাড়া গল্পে পরিবর্তন এনে এবং ডামি ব্যবহার করে সিনেমাটির কাজ শেষ করা হয়। তবে এই কৌশল দর্শকের চোখ এড়াতে পারেনি। অন্যদিকে, ‘আনন্দ অশ্রু’র বেশির ভাগ কাজ শেষ হয়ে যাওয়ায় ডাবিং এবং কয়েকটি দৃশ্যের কাজ সম্পন্ন করেই সিনেমাটি মুক্তি দেয়া সম্ভব হয়।
‘বুকের ভিতর আগুন’-এ নির্মাতারা নেন আরও অভিনব পদ্ধতি। গল্পে দেখানো হয়, দুর্ঘটনার পর প্লাস্টিক সার্জারির মাধ্যমে নায়কের চেহারা বদলে যায়। এরপর পরিবর্তিত চেহারার চরিত্রে অভিনয় করেন নবাগত ফেরদৌস আহমেদ। পরবর্তী সময়ে বাসু চ্যাটার্জির ‘হঠাৎ বৃষ্টি’ সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি ব্যাপক পরিচিতি পান।
আবার কিছু সিনেমায় সালমান শাহর ধারণ করা ফুটেজ বাদ দিয়ে নতুন অভিনেতাকে নিয়ে কাজ শেষ করা হয়। ‘মন মানে না’তে রিয়াজ, ‘কে অপরাধী’তে ওমর সানী এবং ‘তুমি শুধু তুমি’তে অমিত হাসানকে যুক্ত করে নতুন করে দৃশ্য ধারণ করা হয়।
তবে সব সিনেমার ভাগ্য এক ছিল না। ‘প্রেমের বাজি’ শেষ পর্যন্ত আর সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি। অন্য কোনো নায়ককে নিয়েও নতুন করে কাজ শুরু না হওয়ায় সিনেমাটি অসমাপ্তই থেকে যায়।
সালমান শাহর মৃত্যুর পর তার অসমাপ্ত সিনেমাগুলো শেষ করতে নির্মাতাদের নিতে হয়েছিল নানা অভিনব কৌশল। কোথাও বদলেছে গল্প, কোথাও এসেছে ডামি শিল্পী, আবার কোথাও বদলে গেছে নায়ক। পর্দায় নায়ক বদলেছেন, গল্প বদলেছে, পেরিয়ে গেছে সময়—কিন্তু দর্শকের হৃদয়ে সালমান শাহর জায়গাটি আজও বদলায়নি।





