দখলবাজি ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা ক্ষমতাসীন দলের জন্য অশনিসংকেত: টিআইবি

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৮:৪৯ অপরাহ্ন, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৮:৪৯ অপরাহ্ন, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকার মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে লুটপাট, ভাঙচুর ও জবরদখল, কিশোরগঞ্জে জলমহাল দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি।

এসব ঘটনাকে সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের জন্য ‘অশনিসংকেত’ হিসেবে উল্লেখ করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির অভ্যন্তরে ‘আত্মশুদ্ধি অভিযান’ চালানোর আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।

আরও পড়ুন: তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ আরও দুই অনুচ্ছেদে গণভোট চায় বিএনপি

রোববার এক বিবৃতিতে এসব কথা জানায় টিআইবি। বিবৃতিতে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে লুটপাট, ভাঙচুর ও জবরদখলের ঘটনাকে সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের জন্য ‘বিব্রতকর দৃষ্টান্ত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বিবৃতিতে প্রশ্ন তোলেন, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের একজন সদস্যের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং পুলিশের উপস্থিতিতে শত শত মানুষের সামনে দীর্ঘদিন ধরে দরিদ্র ও অসহায় মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে ক্ষমতাসীন দল কী ধরনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।

আরও পড়ুন: শিক্ষা, গবেষণা ও চিকিৎসাসেবার সমন্বিত কেন্দ্র বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়: ডা. রফিক

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ উঠছে। এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে দলটির নীতি-নির্ধারকদের পরিণতি বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি।

বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতাকর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন স্থানে দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। কিশোরগঞ্জের জলমহাল দখল নিয়ে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনাকেও একই ধারার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে টিআইবি।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়; বরং ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে সংঘটিত ঘটনাবলির ধারাবাহিকতা। তাঁর মতে, এ ধরনের ঘটনা সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও সদিচ্ছাকে ম্লান করে জনগণের কাছে নেতিবাচক বার্তা দিতে পারে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, ক্ষমতাসীন দল যদি তাদের দুর্নীতিবিরোধী নির্বাচনী অঙ্গীকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে এখনই কার্যকর আত্মশুদ্ধিমূলক পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে ভবিষ্যতে দখলবাজি ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ সংকুচিত হতে পারে। স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীকে কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কাও জানান তিনি।

বিবৃতিতে প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ ও যথাযথ তদন্ত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার পাশাপাশি দলীয় পর্যায়ে আত্মশুদ্ধি ও কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানায় টিআইবি।