বাংলামোটরে চাঁদা চেয়ে গুলি, বহিষ্কৃত যুবদল নেতা সাইমন রিমান্ডে

Shahrier Islam Pallab
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:০১ অপরাহ্ন, ০২ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ৯:০১ অপরাহ্ন, ০২ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীর বাংলামোটর এলাকায় ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা ফেরদৌস আহমেদ সাইমনের বিরুদ্ধে। চাঁদার টাকা না পেয়ে মারধর ও গুলি ছোড়ার অভিযোগে করা মামলায় তাকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। একই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া অপর তিন আসামি ওমর, মোর্শেদ ও মো. শাওনের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আরিফ রেজা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শুনানির সময় আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। 

আরও পড়ুন: বিডিনিউজের সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী মারা গেছেন

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাতিরঝিল থানার এসআই মো. নাসিম চার আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। মামলার তদন্ত এগিয়ে নিতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। শুনানি শেষে আদালত সাইমনের চার দিন এবং অন্য তিনজনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার এজাহার ও পুলিশের আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে হাতিরঝিল থানার বাংলামোটর এলাকার নিউ ইস্কাটনে একটি বাসার সামনে মো. সোহানের পথরোধ করেন আসামিরা। সেখানে সাইমন তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ করা হয়। 

আরও পড়ুন: বিডি নিউজ সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী'র মৃত্যুতে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর শোক

সোহান টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সাইমন পিস্তল বের করে তার বুকের দিকে তাক করেন এবং গুলি করার চেষ্টা করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। পরে পিস্তলের বাঁট দিয়ে সোহানের মাথায় আঘাত করা হয়। অন্য আসামিরাও তাকে মারধর করেন।

একপর্যায়ে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তারা সেখান থেকে চলে যান। আহত সোহান কাছের একটি ফার্মেসিতে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য যাওয়ার পথে তার ভগ্নিপতি মো. মোক্তার হোসেন সেখানে আসেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, কিছুক্ষণ পর সাইমনসহ অন্যরা মোটরসাইকেলে করে সেখানে ফিরে এসে আবারও সোহানকে মারধরের চেষ্টা করেন। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে মোক্তার হোসেনকেও মারধর করা হয়।

পুলিশের রিমান্ড আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এ সময় সাইমন পিস্তল দিয়ে তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন। গুলির শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে তাদের ধাওয়া করেন। পরে কয়েকজনকে আটক করা হয়। পালানোর সময় সাইমনও আটক হন। খবর পেয়ে হাতিরঝিল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের হেফাজতে নেয়। এ ঘটনায় পরে সোহান বাদী হয়ে হাতিরঝিল থানায় মামলা করেন। মামলায় সাইমন, ওমর, মোর্শেদ ও শাওনকে আসামি করা হয়েছে। 

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেফতার ব্যক্তিদের সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী দলের সক্রিয় সদস্য হিসেবে তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কারা জড়িত, তাদের শনাক্ত করা, পলাতকদের গ্রেফতার এবং মামলার অন্যান্য তথ্য সংগ্রহের জন্য আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া পুলিশের আবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেফতার আসামিদের বিরুদ্ধে হাতিরঝিল ও কলাবাগান থানায় বিভিন্ন মাদকসংক্রান্ত মামলাও রয়েছে।